পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নাশকতার আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও রাতে শনিবারে হোসেনী দালানে আগত ভক্তদের কোন তল্লাশি ব্যবস্থা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোসেনী দালানের চারপাশে প্রচুর র্যাব পুলিশসহ নিরাপত্তাকর্মীরা থাকলেও কাউকেই তল্লাশি করতে দেখেননি। আশুরাকে কেন্দ্র করে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় পরপর হোসেনী দালানে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এক কিশোর নিহত এবং অর্ধ শতাধিক আহত হন।
পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের হোসেনী দালানের ইমামবাড়া থেকে প্রতিবছর আশুরার তাজিয়া মিছিল বের হয়। এর ব্যবস্থাপনায় থাকে ‘হোসেনী দালান ইমামবাড়া’।
শনিবার রাতে গ্রেনেড হামলার আগে হোসেনী দালানে আগত ভক্তদের তল্লাসীর কোন ব্যবস্থা ছিলো কিনা এমন প্রশ্নে র্যাব দশম ব্যাটালিয়ান কমান্ডিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, হাজার হাজার মানুষের মিছিলে জনে জনে তল্লাশি করা সম্ভব ছিল না। দুর্বৃত্তরা সম্ভবত হযরত হাসান-হোসেনের ভক্ত ও সমর্থকদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। সুযোগমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
কমান্ডিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, হোসেনী দালানের ইমামবাড়া এলাকাটি ছিলো পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায়। নিয়ন্ত্রন করা হতো দোতলার কন্ট্রোল রুম থেকে। তদন্তকারীরা এখন সেই ফুটেজ দেখছেন।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তাজিয়া মিছিল কিংবা হোসনি দালান এলাকায় হামলার তথ্য ছিল তাদের কাছে। কিন্তু হোসনি দালানের ভেতরেই দুর্বৃত্তরা ঘটনা ঘটাবে সেটা তারা বুঝে ওঠতে পারেননি।
পুলিশ মহা পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার মিরপুর পর্বত সিনেমা হলের কাছে এএসআই ইব্রাহীম মোল্লা খুনের সঙ্গে তাজিয়া মিছিলে গ্রেনেড হামলার একটা যোগসূত্র থাকতে পারে।
হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ। তাদের গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।







