কূটনীতিক শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ রাজধানীর উত্তরার এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক কোটি টাকা মূল্যমানের একটি বিলাসবহুল গাড়ি আটক করেছে। ইউএনডিপির উর্ধতন কর্মকর্তা স্টিফেন প্রিসনার জন্য শুল্কমুক্তভাবে গাড়িটি আমদানি করে অবৈধভাবে তা বিক্রি করা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে। গাড়িটির বর্তমান ব্যবহারকারী আশিকুল হাসিব তারিক ইউএনডিপির প্রাক্তন স্থানীয় কর্মকর্তা ছিলেন।
আটককালে গাড়িটিতে হলুদ রেজিস্ট্রেশন প্লেট পাওয়া যায়। হলুদ নাম্বার প্লেট সম্বলিত গাড়ি শুধুমাত্র ‘প্রিভিলেজড পারসন’ ব্যবহার করতে পারেন। গাড়ি যাচাই করে দেখা যায়, চ্যাসিস নং V46-4028766, ইঞ্জিন 4M40, মডেল Y-V46WG NXF 1। গাড়ির ইন্জিন নং সিসি 2835। গাড়ির হলুদ নম্বর প্লেট এজস০৫৯। গাড়িটির আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরায় আশিকুল হাসিবের বাড়িতে প্রিভিলেজড সুবিধায় আনিত গাড়ির উপর নজরদারি করে। গতকাল গাড়িটি ঐ বাড়ির গ্যারেজ থেকে তুলে আনা হয়। আজ মঙ্গলবার কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে গাড়িটি আটক দেখানো হয়।
বাড়ির মালিক বাড়িতে না থাকলেও তার স্ত্রী গাড়ির কোন কাগজ দেখাতে পারেননি। তিনি প্রথমে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে অসহযোগিতামুলক আচরন করেন। তবে তিনি মৌখিকভাবে স্বীকার করেন যে, গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনিত ও তারা প্রিভিলেজড পারসন থেকে ক্রয় করেছেন এবং তা ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গাড়িটি প্রিভিলেজ সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকারক উক্ত ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।

কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, গাড়িটি প্রিভিলেজড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকৃত। শুল্কমুক্ত হিসেবে ছাড় করা গাড়ি বিক্রি না করার শর্ত থাকলেও তা পরিপালন করা হয়নি।
গাডিটি ইউএনডিপি-র উর্ধতন কর্মকর্তা স্টিফেন প্রিসনার শুল্কমুক্ত সুবিধায় এনেছিলেন। তিনি অনুমতি না নিয়ে এবং শুল্ক পরিশোধ ব্যতিরেকে হস্তান্তর করেছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্ক আইন ভঙ্গ করেছেন। তিনি অবৈধভাবে গাড়ি হস্তান্তর করে এর মধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
একইভাবে শুল্ক পরিশোধ না করে বর্তমান ব্যবহারকারী আশিক আইন ভঙ্গ করেছেন। হলুদ প্লেটের পদাধিকার না থাকলেও তিনি এটি ব্যবহার করে আইন ভঙ্গ করেছেন।
এ ব্যাপারে দি কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে ।








