গেল সপ্তাহে শেষ হয়েছে বিশ্বের অন্যতম দাপুটে এবং প্রেস্টিজিয়াস চলচ্চিত্র উৎসব লোকার্নোর ৭১তম আসর। এবারের লোকার্নো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লিওপার্ড (পারদো দোওরো) পুরস্কার জিতে নিয়েছে সিঙ্গাপুরের ছবি ‘অ্যা ল্যান্ড ইমাজিনড’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইয়েও সিউ হুয়া। এই চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র কর্মী ইশতিয়াক জিকো। তিনি এ চলচ্চিত্রে ক্যামেরার পেছনের দৃশ্য ধারণকারীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
এই পুরস্কার এবং চলচ্চিত্র ঘিরে পরিচালকের ভাবনা নিয়ে লোকার্নো ফ্যাস্টিভ্যাল নিউজ-এ তাঁর সাথে কথা বলেছেন মাতিয়া বেরতলদি। চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন জুয়েইরিযাহ মউ:
প্রথমবারের মতো একটি সিঙ্গাপুরি চলচ্চিত্র লোকার্নোর মতো কোনো প্রেস্টিজিয়াস চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জেন করলো। এ চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার এই প্রাপ্তি, কেমন লাগছে?
আসলে আমি বাকরুদ্ধ! সীমাহীন আনন্দ হচ্ছে একপ্রকার! আমি কল্পনাও করিনি লোকার্নোর মতো একটি উৎসবে আমি প্রতিযোগিতার আসরে অংশ নিবো এবং এধরনের একটি পুরস্কার জিতে যাবো। আমার দুর্দান্ত স্বপ্নগুলোর একটি ছিল এটি।

সিঙ্গাপুরি চলচ্চিত্রের জন্য এটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
আমার মনে হয় গোল্ডেন লিওপার্ড (পারদো দোওরো) অনেক কিছুই উপস্থাপন করে। আমি জানি না সিঙ্গাপুরি চলচ্চিত্র নিয়ে কীভাবে কথা বলবো কিন্তু এ পর্যন্ত এটা আমার জীবনের সবচে বড় প্রাপ্তি। আমার মনে হয় অন্যদেরও এটা উৎসাহিত করবে।
লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য অনেক বড় স্বীকৃতি। আমার জন্য এটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ যে সীমানা পার হওয়া এবং নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা। লোকার্নো আমার কাছে এসমস্তকিছুর উপস্থাপনই বটে!
আপনি ‘থার্টিন লিটল পিকচার্স’-এর ও সাথেও জড়িত ছিলেন যেটি মূলত ‘the spirit of collaboration and the hope of creating films with unique directorial visions’ এই বিষয়কে ঘিরে সৃষ্ট। তো ‘অ্যা ল্যান্ড ইমাজিনড’ কতটা ধারণ করে এ লক্ষ্যকে?
যে জায়গা থেকে আমি এসেছি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলগুলোতে সিনেমা এখনো অনেক অপরিনত, তরুণ। আমাদের একজনকে আরেকজনের সাহায্য করতে হবে। ঠিক আমার সিনেমাতে যেমন আমি অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতার সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি ছোট থেকে ছোট কিংবা বড় কাজের জন্য। আমি প্রত্যাশা করি একসাথেই আমরা ছড়িয়ে যাবো এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।
আপনার প্রোডাকশনে সবচেয়ে কঠিন কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন আপনি?
একটা ভালো গল্প লেখার ক্ষেত্রে, একটা ভালো চিত্রনাট্য লেখা সবসময় কঠিন একটা কাজ। কিন্তু সবচে কঠিন কাজ ছিল কোন ধরনের আরোপিত ব্যাপার ছাড়া বিষয়টা উপস্থাপন করা সিঙ্গাপুরের সেসমস্ত মানুষকে ঘিরে যাদের আমি উপস্থাপন করতে চাইছিলাম। আমি তাদের আনন্দ-হাসি-বিজয়-কষ্ট-ভালোবাসা-স্বপ্নকে দেখাতে চেয়েছি। এবং সেটাই সবচে কঠিন কাজ ছিল আমার জন্য।
আপনার চলচ্চিত্র দু’টো স্তর নিয়ে কাজ করেছে, একটা হল ধনী যে অংশটা সিঙ্গাপুর শহরের আরেকটা হল দরিদ্র শহর বা শ্রমিক শ্রেণিকে নিয়ে যারা নির্মাণের সাথে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, এতে কি দেশকেও সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করছেন?
আমার সিনেমাতে চরিত্রগুলো এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাওয়া-আসা করে, এর মাধ্যমে তারা এক পথ থেকে আরেক পথে সরে যেতে থাকে। এটা আসলে এক ধরনের অনুভূতি যা আমি নিজে অনুভব করি, যেখান থেকে আমি নিজে এসেছি, সিঙ্গাপুর। এটা খুবই আগ্রহোদ্দীপক একটা জায়গা যে জায়গাটা নিজেকে বার বার গড়ে নিচ্ছে। একটা শহর, যেটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো খানিকটা।
চলচ্চিত্র পরিচালকের মধ্যে কে কে আপনার আদর্শ?
এটা বলা কঠিন যে এই চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে কোন কোন নির্দেশক আমার আদর্শ ছিলেন। কিন্তু সাধারণত আমি খুব উৎসাহিত বোধ করি সেসমস্ত সিনেমার প্রতি যেগুলোতে সিঙ্গাপুর-এর বিষয় থাকে। যেমন বলা যায়, তাইওয়ানের নিউ ওয়েভের দুর্দান্ত মাস্টারদের সিনেমাগুলো।

দর্শনে পড়ার ফলে এর কতটুকু আপনার লক্ষ্যকে প্রভাবিত করে এখন?
আমার পড়াশোনা অনেককাংশেই আমার জীবন ও কাজকে প্রভাবিত করে। এধরনের বিষয়গুলো যা আমাকে ভাবায়, যা দর্শনগতভাবেই উপস্থাপিত হয় – এগুলোর প্রতিচ্ছবি তো পাওয়াই যায় আমার কাজে। এগুলো থেকে আমি পালাতে পারবো না কিছুতেই।
শেষ প্রশ্ন, ভবিষ্যত নিয়ে, ‘পারদো দোওরো’ পুরস্কার কি সহজ করে দিচ্ছে চলার পথ না কি আরও কঠিন হয়ে যাবে এটা?
আমি প্রত্যাশা করি সহজই হবে। আমি মনে করি এই পুরস্কার এমন একটা প্রাপ্তি যা আমাকে সামনে চলতে প্রেরণা যোগাবে, যাতে আরও ভালো কাজ করা যায়, ভালো সিনেমা বানানো যায়। আমার এটাও মনে হয় পারদো দোওরো আমাকে সাহায্য করবে আরও ভাল একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে, ধন্যবাদ আপনাকে।








