চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

‘গত ১০ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে’

রাজু আলীম রাজু আলীম
৪:০৩ অপরাহ্ণ ২৭, সেপ্টেম্বর ২০১৮
সাক্ষাতকার
A A

সম্প্রতি দেশের শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রাম এর প্রেসিডেন্ট এবং চট্টগ্রাম ক্লাব এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এসএম আবু তৈয়ব, ওয়েল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সৈয়দ নূরুল ইসলাম, দেশ গার্মেন্টস এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিদিয়া আমৃত খান এবং ডেকো এক্সেসরিজ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তাদের সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাজু আলীম।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে: এসএম আবু তৈয়ব

প্রশ্ন: চট্টগ্রাম থেকে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে ব্যবসা করছেন অনেকে। আপনারা তাদেরকে কিভাবে উৎসাহিত করছেন?
এসএম আবু তৈয়ব: চট্টগ্রামকে বিধাতা একটি প্রাকৃতিক বন্দর দিয়েছেন। এই বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্বার। তাই চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে এই দেশের অর্থনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে। মংলা এবং পায়রা বন্দর হলেও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ আমদানি রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই হবে। সুতরাং চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই অর্থনীতির সবকিছু আবর্তিত হওয়া উচিৎ এবং সেভাবেই আমরা পুরাতন এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা এগিয়ে চলেছি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমরা লক্ষ্য করছি- চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য যেভাবে প্রসার হওয়ার কথা ছিল ঠিক সেভাবে প্রসার হয়নি- এটি জাতির জন্য দুঃখজনক ব্যাপার। আমদানি রপ্তানি এবং বড় বড় শিল্প কলকারখানাগুলো চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক আবর্তিত হলে আরও বেশি ভালো হতো।

প্রশ্ন: চট্টগ্রামের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে কী করলে চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন?
এসএম আবু তৈয়ব: আমরা অনেক অভিযোগ করছি। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে ৪৫ বছরে যা হওয়ার কথা ছিল তা যদি ১০ বছরে হয় তাহলে সেখানে কষ্ট থাকবেই। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার নিজেরও অনেক অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু আমি একটু সহনশীল হতে চাই- গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। কালুরঘাটে আন্তর্জাতিক মানের পানির পরিশোধনাগার হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার উদ্যোগে। যা অত্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ট্যাপ খুলে আপনি পানি খাবেন। বিদেশের মতো জাইকার সহযোগিতায় হচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৯০ শতাংশ কাজ খুব সুন্দরভাবে হয়েছে। কিন্তু কেন জানি শেষের দিকে এসে ১০ শতাংশ কাজে একটু বিশৃংখলা হচ্ছে। রাস্তাগুলো খুঁড়ে রাখা হয়েছে কাজ শেষ হচ্ছে না।

এসব কষ্টগুলো আমরা অনুভব করছি কিন্তু সাথে সাথে চট্টগ্রামে কিন্তু ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। যেমন, ফ্লাইওভার হয়েছে টানেল হচ্ছে। সমুদ্রের পাড় দিয়ে রাস্তা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো- অনেক দিনের জমা কাজগুলো অল্প সময়ের মধ্যে শুরু হয়েছে তাই এটার কষ্ট আমরা অনুভব করছি। কিন্তু এই কষ্ট মেনে নিচ্ছি। কারণ আমি ভবিষ্যত দেখছি।

প্রশ্ন: সমুদ্রসীমা আমরা জয় করেছি সেখানে কি সম্ভাবনা তৈরি রয়েছে?
এসএম আবু তৈয়ব: সমুদ্র তো একটা ভাণ্ডার। সবচেয়ে সুখের খবর আমরা একটা সীমানা পেয়েছি। আমরা আগে যেতে পারতাম না- নানা রকম জটিলতার কারণে। কিন্তু আমরা এখনো ওইভাবে উপস্থিত নই। সমুদ্রের নীচে যে অফুরন্ত সম্পদ বিধাতা আমাদের দিয়েছেন তা কিন্তু এখনো আমরা আবিষ্কার করতে পারছি না। গেলো কয়েক বছরে কিছু পরিকল্পনা এসেছে যেমন, ইলিশ যখন পোনা ছাড়বে তখন কেউ মাছ ধরতে পারবেন না। এটি এই সরকারের ভালো একটা পদক্ষেপ। গত ৩-৪ বছর ধরে এটির ভালো ফল আমরা পাচ্ছি, এই এক মাস সময়ে জেলেরা মাছ ধরতে পারবে না কিন্তু সরকার তাদেরকে প্রণোদনা দেবে। এতে ৩ মাস পরে আমরা প্রচুর ইলিশ পাচ্ছি। এই ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করার জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা চট্টগ্রামে নাই।

Reneta

প্রশ্ন: চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক শহরের মতো করা যায় কি?
এসএম আবু তৈয়ব:
আন্তর্জাতিক যে বড় বড় শহরগুলো আছে- প্যারিস, লন্ডন টেমস নদীর দুই পাড় মিলিয়ে। চট্টগ্রামের ঠিক মাঝখান দিয়ে কর্ণফুলি নদী বাহিত। দুই পাড় মিলে আন্তর্জাতিক মানের বিরাট শহর হতে পারতো। কিন্তু নদীর এপাড়ে আলো ওই পাড়ে অন্ধকার। ঠিক উল্টোটা। জোরে চিৎকার দিলে ওই পাড়ে শোনা যাবে। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে।

চট্টগ্রামকে নিয়ে গর্ব করার মত জায়গা আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে তৈরি করছি: সৈয়দ নূরুল ইসলাম

প্রশ্ন: আপনার বড় ভাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। আপনাদের গ্রুপ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক শুরু হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক আর কি কি করলে চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও উন্নয়ন সম্ভব?
সৈয়দ নূরুল ইসলাম: তৈয়ব ভাই চট্টগ্রাম থাকেন, আমি চট্টগ্রাম থাকি না। কিন্তু আমার হৃদয় চট্টগ্রামে। আমার পড়াশোনার ৯৫ শতাংশই চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা চট্টগ্রাম নিয়ে হতাশা সবকিছু্তেই আমি আক্রান্ত কারণ আমার ব্যবসা বাণিজ্য সব ওখানেই। তৈয়ব ভাই কিছুটা টাচ করেছেন চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্ভার যা জাতির জন্য প্রাকৃতিক উপহার। কিন্তু তা ঠিকমতো ব্যবহার আমরা করতে পারিনি। তথ্য উপাত্ত দিয়ে বলতে পারি- বাংলাদেশের ৮৫ বা ৯০ শতাংশ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালিত হয় চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল জায়গা, যাকে হৃদয় বলা যায়। এটি কারও ব্যক্তিগত কারণে গড়ে ওঠেনি প্রকৃতি প্রদত্তভাবে চট্টগ্রাম গড়ে উঠেছে।

প্রশ্ন: ব্লু ইকনোমির কথা বলা হয় চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে?
সৈয়দ নূরুল ইসলাম: ব্লু ইকোনমির প্রসঙ্গে পরে আসছি। বাংলাদেশের সমগ্র অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার কথা বলি তার ৮৫ শতাংশ চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক গেলো ৪৬ বছরে চট্টগ্রামকে নিয়ে ওইভাবে সরকার বা কেউ ভাবেনি। তবে আশার কথা হলো- গত ১০ বছরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার চট্টগ্রামের দিকে নজর দিয়েছে। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে লক্ষ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কথা বলেছেন। গেলো দশ বছরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ হয়েছে। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাটের যে মেরিন ড্রাইভ। ফৌজদার হাট থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত যে আউটার রিং রোড। কালুরঘাট থেকে চাকতাই পর্যন্ত আউটার রিভার ড্রাউভ হচ্ছে। আর চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতার যে মূল জায়গা তার সমাধান করার জন্যে সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

সব মিলিয়ে গেলো দশ বছরে চট্টগ্রামকে নিয়ে কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন- আপনি সন্তুষ্ট কিনা? আমি বলবো যে, না। কারণ যে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো চট্টগ্রাম বন্দর। মানুষ চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ে কথা বলে কিন্তু চট্টগ্রাম শহরকে নিয়ে বলে না। কিন্তু আমি যখন বন্দরের প্রশ্ন আসে তখন শহর নিয়ে কথা বলি। পৃথিবীর বন্দর কেন্দ্রিক শহরগুলোর কথা যদি আপনি ভাবেন- আমরা কি দেখি সাংহাই এর দিকে? সাংহাই বন্দরকে যতটুকু না শক্তিশালী করা হয়েছে তারচেয়ে বেশি সাংহাই শহরকে করা হয়েছে। মুম্বাই বন্দরের সক্ষমতার চেয়ে শহরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে অনেক বেশি। করাচি আর মালয়েশিয়ার পেনাং এর কথা যদি বলেন সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। এর কারণ হলো একটা বন্দরকে শক্তিশালী করলে হবে না? বন্দরের সক্ষমতা বাড়ালে হবে না? বন্দরকে কেন্দ্র করে যে শহরটা গড়ে উঠেছে তাকে অবহেলা করে সফলতা আসবে না? আমরা শুধু বন্দর বন্দর করছি কিন্তু আমার শহর নিয়ে বলছি না? দশ বছর আগে বাংলাদেশের এক্সটার্নাল ট্রেড এর মধ্যে এক্সপোর্ট ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার আর ইম্পোর্ট ছিল ১৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রশ্ন: চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেছিলেন- চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুর এর মতো বানাবেন। সেই পথে অগ্রগতি কতোটা?
সৈয়দ নূরুল ইসলাম: একটা কর্তৃপক্ষ চাইলে তো হবে না? তিনি স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। আমি তার পেছনে কাজ করছি। ভৌগলিকগতভাবে চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুর না বানানো সম্ভব হলেও এর কাছাকাছি যেতে পারলেও আমাদের ব্যর্থতা দূর হবে। ৪৬ বছর চট্টগ্রাম অবহেলিত ছিল। গেলো ১০ বছর প্ল্যানিং ষ্টেজ ছিল একটা। প্রজেক্ট গ্রহণ করতে হয়েছে, ডিজাইন করতে হয়েছে এবং প্রজেক্ট পাশ করিয়ে ইম্প্লিমেন্ট করতে হয়েছে এবং তা বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় খুব সহজ কাজ নয়। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে তার ৭০ শতাংশ এক্সিকিউট হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে লালখান বাজারে যেতে কষ্ট আছে। সেখান থেকে যখন ফ্লাইওভার দিয়ে বহদ্দার হাট যাবেন কষ্ট নাই। মাত্র ৭ মিনিট লাগে। দুইঘন্টা থেকে ৭ মিনিটে নিয়ে এসেছি আমরা- যারা এখনকার সরকারের সাথে কাজ করছি।

চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত টেন্ডার হয়ে গেছে গত ৩০ তারিখ। আগামী ২ বছরের মধ্যে যাত্রী- এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি নামিয়ে যাবে কোথায়? দেওয়ান হাট- সেখান থেকে আরেকটা ফ্লাইওভারের উপরে উঠে চলে যাবেন কালুরঘাট। এই যে প্রতিটি ভালো জিনিস প্রসব করতে একটু বেদনা হয়। চট্টগ্রামকে নিয়ে গর্ব করার মতো জায়গা আগামী দুই বছরের মধ্যে তৈরি করছি আমরা। কারণ মেরিন ড্রাইভ চালু হয়ে যাচ্ছে। ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট। ৪৬ বছরের জঞ্জাল ১ বছরে দূর করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশ। আমরা এক্সটার্নাল ট্রেড হ্যান্ডেল করি। এক্সপোর্ট এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখছি উন্নত বিশ্বে যাওয়ার আগামী ১০ বছরের ভেতরে। তখন আমার এক্সপোর্ট হয়ে যাবে ১০০ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারের এক্সপোর্ট হান্ডেল হবে। তাই চট্টগ্রামকে উন্নত না করলে এই স্বপ্ন পূরণ হবে না।

ব্যবসা যত তাড়াতাড়ি বাড়ছে রাস্তাঘাট ততো তাড়াতাড়ি বাড়ছে না: ভিদিয়া আমৃত খান

প্রশ্ন: আপনারা গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রির পাইওনিয়ার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাই?
ভিদিয়া আমৃত খান: আমার বাবা যখন প্রথমে দেশ গার্মেন্টস শুরু করেছিল তখন তিনি কিন্তু প্রথমে চট্টগ্রামে গিয়ে কারখানা স্থাপন করেছিলেন। কালুরঘাট বিসিক এলাকায়- এটি বাংলাদেশের প্রথম শিল্প এলাকা। আমার বাবা ময়মনসিংহের মানুষ, থাকতেন ঢাকাতে আর কারখানা করেছিলেন চট্টগ্রামে। নূরুল সাহেব যেমন চট্টগ্রামের মানুষ কিন্তু ঢাকাতে থাকেন। আর আমরা ঢাকায় থেকে চট্ট্রগামে ব্যবসা করছি। আমার বাবা যখন চট্টগ্রামে কারখানা করেন তখন অনেকে তাকে প্রশ্ন করেন, কেন তুমি চট্টগ্রামে করছো? তার উত্তর ছিল খুবই সাধারণ বন্দর নগরীতে করছি। প্রকৃতপক্ষে কালুরঘাটে যে এলাকায় আমাদের কারখানা, তার কল্পনা ১৯৭৭-১৯৭৮ সালে ছিল যে, ওই কালুরঘাট থেকে টার্মিনালের মাধ্যমে সরাসরি বন্দরের সংযোগ হয়ে চলে যাবে।

এটা তিনি চিন্তা করেছিলেন কারণ তিনি বাংলাদেশ সরকারের এবং মুজিব নগর সরকারের সংস্থাপন সচিব ছিলেন। সেই সময়ে তার দূরদর্শিতা কিন্তু এই রকমই ছিল। কিন্তু ৪৬ বছর পরেও বিমানবন্দর থেকে কালুরঘাট পৌঁছাতে ২ ঘন্টা সময় লাগে এবং রাস্তা এতো খারাপ তা বলার বাইরে। শুধু এই না? রানা প্লাজা ট্রাজেডির পরে আমরা আমাদের কারখানা এতো সুন্দর করেছি কিন্তু কারখানা থেকে বের হওয়ার পরে মনে হয়- এটা আমি কোথায় এলাম? বস্তির মাঝখান দিয়ে যাচ্ছি? এতো ময়লা। পরিষ্কার করা হয় না- একটা কালভার্ট আছে কিন্তু তা দিয়ে পানি যায় না। দশ বছর পরে আমাদের কারখানার সামনে ড্রেন বানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম তো এমনিতেই নিচু এলাকা, বৃষ্টির পানি সব কারখানার ভেতরে ঢোকে। যখন কোন বায়ার আসেন, তারা ভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? একবার আসলে দ্বিতীয়বার তারা আর আসতে চায় না। তাই কিভাবে আমরা ব্যবসা করবো?

কালুরঘাট বিসিক এলাকায় বার্জার, ইউনিলিভার, ট্রান্সকম, অ্যারামিটসব সবাই সেখানে আছে। অনেক মন্ত্রী এবং এমপিদের কারখানা সেখানে আছে। আমি যদি আগামীতে কোন প্রিভিলেজ পজিশনে থাকি যেখান থেকে আমি প্রভাব বিস্তার করতে পারবো তাহলে আমি পুরো এলাকা ভালো করে দেব। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো যে, আমরা সেখান থেকে এক্সপোর্ট করি, আমরা মানুষকে চাকরি দিচ্ছি কর্মসংস্থান হচ্ছে কিন্ত আমাদের এখানে কিছুই হচ্ছে না। ইপিজেডকে এতো সুন্দর করে দেবে- যেখানে সব বিদেশি বিনিয়োগকারী তারা টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যায়, আর আমাদের জন্যে কোন সুবিধাই নাই। এই পার্থক্য কেন? আমরা এক্সপোর্ট করছি না? আমরা কর্মসংস্থান করছি না? ইডিপিজেড এ যাদের কারখানা আছে তারা সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পাবে আর আমরা পাব না- কেন?

প্রশ্ন: ব্যাংকের এখন অবস্থা নাজুক। এই ব্যাপারে গার্মেন্টস ইন্ড্রাষ্টির উদ্যোক্তাদের ভূমিকা কী হতে পারে?
ভিদিয়া আমৃত খান: ব্যবসা যতো তাড়াতাড়ি বাড়ছে রাস্তাঘাট ততো তাড়াতাড়ি বাড়ছে না। এতো মানুষের দেশ এটি খুব কঠিন বিষয়। ছোট জায়গায় এতো মানুষের বাস এটি কঠিন কাজ। রাস্তাঘাট নেই তা কিন্তু না। কিন্তু প্রবৃদ্ধির সাথে তুলনা করলে কম। রাস্তা আছে কিন্তু শৃংখলা নেই। যেখানে সেখানে পার্কিং সিষ্টেম নাই এগুলো বড় সমস্যা। ঈদের আগে ব্যাংক আমাকে টাকা দিতে পারেনি। তিন দিনে দেয়ার কথা দশ দিনে দিয়েছে। ব্যাংকের টাকা কোথায় যাচ্ছে তা গার্মেন্টস ইন্ড্রাষ্টির মানুষ কিভাবে জানবে? আমাদের কাজ সাপোর্ট দেয়া আমরা দিচ্ছি।

আমরা প্রতিটি কারখানাকে পাঁচ তারকা মানের সুযোগ সুবিধার মধ্যে আনতে চাই: মোহাম্মদ আবদুর রউফ

প্রশ্ন: ডেকো এক্সেসরিজ বড় গ্রুপ। এটি তো গার্মেন্টস এর সাথে সম্পৃক্ত। আপনাদের কাজ সম্পর্কে জানতে চাই?
মোহাম্মদ আবদুর রউফ: চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আর ঢাকার পরিস্থিতি প্রায় একই। আমরা প্রতিটি কারখানাকে চাচ্ছি পাঁচ তারকা মানের সুযোগ সুবিধার মধ্যে আনতে। বায়ারদের চাহিদা এখন অনেক বেশি। কম্প্ল্যায়েন্স এর প্রচুর টাকা খরচ করছি। কারখানাকে সবুজ এবং সুন্দর করার জন্যে প্রচুর বিনিয়োগ করছি আমরা। কিন্তু রাস্তার অবস্থা কী? কারখানা থেকে বের হলেই কী অবস্থা? শুধু চট্টগ্রাম কেন? টঙ্গীতে, গাজীপুরে এবং প্রতিটি এলাকাতে যদি প্রধান সড়ক থেকে সংযোগ সড়কে ঢোকেন দেখতে পাবেন- কারখানার পরে কারখানা হচ্ছে। বড় বড় কন্টেনার ঢুকছে কিন্তু রাস্তা সীমিত। বছরের পর বছর সংষ্কার নাই। রাস্তায় ট্রাক রিক্সা উল্টে যাচ্ছে। বিদেশী বায়রা এই ধরণের পরিবেশের কথা চিন্তাই করতে পারছে না।

প্রশ্ন: আপনি অনেক বছর রিটেইল ইন্ডাষ্ট্রিতে ছিলেন। এর সাথে গার্মেন্টস শিল্পের সংযোগ কতোটা?
মোহাম্মদ আবদুর রউফ: গার্মেন্টস শিল্পের সাথে রিটেইলের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। প্রকৃতপক্ষে যারা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আছেন তারা প্রত্যেকেই প্রডাক্ট তৈরি করছেন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য। যেহেতু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারছে। তাই তারা ভেবে দেখছেন আমাদের স্থানীয় চাহিদাও তো তৈরি হয়ে গেছে? তাই আমাদের দেশে যেটা হতো বা গত কয়েক বছর আগেও যেটা হয়েছে গুটি কয়েক রিটেইলার ছিলো তাই স্থানীয় চাহিদার দিকে তারা ওইভাবে খেয়াল করেনি। আর আমাদের ফ্যাশন হাউজগুলোর বেশিরভাগই আমদানি নির্ভর ছিলো। যেখানে আমাদের দেশ থেকে প্রডাক্ট বাইরে যাচ্ছে সেখানে কেন আমরা আমদানি করে স্থানীয় বাজার পূরণ করবো? সেই দিক থেকে অনেক গার্মেন্টস এর মালিক এবং উদ্যোক্তারা চিন্তা করলো- আমরা কেন আমাদের জন্যে তৈরি করবো না?

প্রশ্ন: লাইক বেক্সিমকো ইয়োলো?
মোহাম্মদ আবদুর রউফ: বেক্সিমকো, ইয়োলো, সেইলারসহ অনেকে করেছে। এটির ভালো বাজার আছে এবং সুযোগও অনেক।

প্রশ্ন: লাভের দিকে কি যাচ্ছে?
মোহাম্মদ আবদুর রউফ:
অবশ্যই। যেহেতু বিশেষজ্ঞ আছে। তারা জানেন ইনস এবং আউট। কিভাবে কম দামে পণ্য তৈরি করা যায়?

প্রশ্ন: ডেকো এক্সেসরিজ এর নতুন পরিকল্পনা কী?
মোহাম্মদ আবদুর রউফ: এক্সেসরিজ ছিল আমদানি নির্ভর। আমাদের চাহিদার ৮০ শতাংশ চায়না থেকে আসতো। চায়নায় শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আমদানিতে এখন খরচ অনেক। খুব কম সময়ে বাংলাদেশে কোয়ালিটি প্রডাক্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আমরা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: অর্থনীতিবাণিজ্যশিল্পসাক্ষাতকার
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে অশ্রুসিক্ত মেসি

জুলাই ২০, ২০২৬

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে নজর কেড়েছেন লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই

জুলাই ২০, ২০২৬

বেলজিয়ামের দায়িত্ব ছাড়ছেন রুডি গার্সিয়া

জুলাই ২০, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে বিশৃঙ্খলা: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু ফিফার

জুলাই ২০, ২০২৬

যমুনায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা

জুলাই ২০, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2026 Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT