বাড়ির গৃহকর্মীকে দিয়ে শ্রেণীকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করান বছিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ওই নারী গৃহকর্মীর বেতের আঘাতে আহত হয়েছে ৫ শিক্ষার্থী। এমন ঘটনাকে প্রদীপের নিচে অন্ধকার হিসেবে মন্তব্য করেছেন সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
১৯৩২ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের বছিলা পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। অবকাঠামো, ছাত্র শিক্ষকের অনুপাত সবদিক দিয়েই আধুনিক আর এগিয়ে থাকা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মোমিনুন নেসা তার বাড়ির গৃহকর্মী নুরজাহানকে দিয়ে প্রায়ই তার ক্লাশ নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
অন্য শিক্ষকরাও তাদের শ্রেণী নিয়ন্ত্রণে সাহায্য নেন নুরজাহানের। গত ৪ ফেব্রুয়ারি টিফিনের বিরতির পর নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষক ক্লাশে না এলে কিছুটা হৈ চৈ করছিলো তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের নির্দেশে গৃহকর্মী নুরজাহান বেত নিয়ে প্রহার করেন শিশুদের। এক শিশুর মেরুদণ্ড পরপর ১০টি আঘাত করার পর বেত ভেঙ্গে যায়।
আহত হওয়া শিক্ষার্থী বলেন, টিফিন শেষ হওয়ার পর ক্লাস দেরি করে যাওয়ার জন্য বলে তোরে এভারে ২০টা বেতে বারি দিমু এরপর ১০টা বেতের বাড়ি দেয়। অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাকেও বেত দিয়ে মারছে।
এসএমসির সভাপতিসহ অভিভাবকরা বলেছেন, গৃহকর্মী দিয়ে ক্লাশ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের সতর্ক করা হলেও তারা শোনেননি।
এসএমসি কমিটির সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, কাজের মহিলা দিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ক্লাস নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তাকে যদি কিছু বলা হয় সে বলে আমি এক’শ মার দিমু আমারে মেডাম মারতে কইছে। শিক্ষক অফিস রুমে বসা থাকে আর কাজের মহিলা ক্লাস নিয়ন্ত্রণ করে। আসলে শিক্ষকরা ওনাকে বলে তুমি যেয়ে ক্লাস সামলাও।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনা জানেন না বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, কাজের মেয়েকে শুধু বলা হতো শিক্ষার্থীদের হৈচৈ একটু থামাতে। কিন্তু কাজের মেয়েকে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে বেত দিয়ে সেটি একদম উচিত না।
তবে এরকম ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, এই ঢাকা নগরীতে কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিকল্প কোনো কিছু অবলম্বন করতে হয় তা জানা ছিলো না। তাও আবার যার কোনো লেখাপড়া নেই, যার কোনো এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেই সে ভুয়া হতে পারে কিন্তু সে শিক্ষকতার যোগ্যতা কোথা থেকে পেলো এবং তাকে সে দায়িত্ব কে বা কারা দিলেন কেনো দিলেন এ বিষয়গুলো শিগগিরি জেনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
তিনি এও মনে করেন, শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি নয়, শিক্ষক সমিতিরও এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সোচ্চার হওয়া উচিত।






