গৃহকর্মীর সঙ্গে জালিয়াতির দায়ে হামিদুর রশিদ নামে জাতিসংঘের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে তোলার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে তার জামিন হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ইউএনডিপি’র ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত হামিদুর রশিদকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে তোলার পর শুনানি শেষে জামিন পান তিনি।
মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুসারে, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ‘ইউএনডিপি’র এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীর সঙ্গে ভিসা জালিয়াতি, কর্মী নিয়োগ চুক্তি জালিয়াতি এবং ওই গৃহকর্মীর পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, হামিদুর রশিদ বাংলাদেশ থেকে নেয়া গৃহকর্মীর জন্য প্রযোজ্য জি-৫ ভিসার নিয়ম অনুযায়ী যে মজুরি দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন পরবর্তীতে তিনি তা মানেননি।
সাপ্তাহিক ৪২০ মার্কিন ডলার মজুরিতে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিপত্র পররাষ্ট্র দপ্তরে দাখিল করা হলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ওই গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে নতুন একটি চুক্তিপত্রে সই নেন হামিদুর। সেখানে সাপ্তাহিক মজুরি দেখানো হয় ২৯০ মার্কিন ডলার।
এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীকে সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানোর অভিযোগও আনা হয়।
এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউএনডিপি কূটনীতিক হামিদুর রশিদের সর্বোচ্চ ২৯ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে এ ব্যাপারে হামিদুর রশিদ বা ইউএনডিপি’র প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। ওই গৃহকর্মী চার বছর আগে হামিদুরের কাজ ছেড়ে দেন বলেও জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
এর আগে গত সপ্তাহে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এর মধ্য দিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।








