নর্থ কোরিয়া নিয়ে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় গুয়াম অঞ্চলের বিমানঘাঁটিতে মিসাইল হামলার হুমকি দিয়েছে দেশটি।
এই দ্বিপ থেকেই সম্প্রতি সাউথ কোরিয়া, জাপানের সাথে কোরিয় উপকূলে বিমান মহড়ায় অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নর্থ কোরিয়াকে ধ্বংসের হুমকি দিলে পাল্টা জবাবে এমন হুমকি নর্থ কোরিয়ার।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ প্রতিবেদনে বলা হয়, নর্থ কোরিয়া গুয়ামকে লক্ষ্য করে মাঝারি থেকে দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। ওই বিমানঘাঁটিতেই মার্কিন আধুনিক বোমারু বিমানগুলো রাখা হয়।
নর্থ কোরিয়ার মধ্যম ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানার মধ্যে গুয়ামের অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এর সামরিক তাৎপর্য ব্যাপক। আর একারণেই তা পিয়ংইয়ং-য়ের হামলার লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
গুয়াম দ্বিপকে ১৫৬৫ সাল থেকে স্পেন নিজেদের অংশ বলে দাবি করতো। ১৮৯৮ সালে স্পেনিশ-আমেরিকান যুদ্ধের সময় তা যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন হয়।
৫৪৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের যুক্তরাষ্ট্রের এই সার্বভৌম এলাকা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূমি মার্কিন সেনা নিয়ন্ত্রিত, এখানে ৬ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান এমনটি জানান।
এই দ্বিপের অবস্থান একেবারেই প্রান্তিক। এর নিকটবর্তী উল্লেখযোগ্য অধিবাসী রয়েছে ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেসিয়া’য় (পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে ৬ শতাধিক দ্বিপ নিয়ে গঠিত দেশ), যা প্রায় ৯১৭ কিলোমিটার দূরে।
এছাড়াও পাপুয়া নিউগিনি ২ হাজার ২৫৩ কিলোমিটার দুরে, ফিলিপাইন ২ হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার দূরে, জাপান দূরে ২ হাজার ৬১২ কিলোমিটার।
২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী গুয়ামের জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। এর প্রায় ৪০ শতাংশ আদিবাসী ক্যামোরো, ২৫ শতাংশ ফিলিপিনো।
মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে গুয়ামের অধিবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু দ্বিপটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্পের জন্য তা অপরিহার্য।
গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতভাবে নর্থের অস্ত্র পরীক্ষা ও পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে নতুন কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়।
সোমবার এর প্রতিক্রিয়ায় নর্থ কোরিয়া নতুন এসব অবরোধকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের তীব্র লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও হুমকি দেয় তারা।







