গুসি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজকে সংবর্ধনা জানিয়েছে চ্যানেল আইয়ের বার্তা বিভাগ। গুসি শান্তি পুরস্কারের মতো সম্মান চ্যানেল আইকে সমাজের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন শাইখ সিরাজ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চ্যানেল আইয়ের এডিটর, নিউজ এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, সাইফুল আমিন তার বক্তব্যে শাইখ সিরাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শান্তির বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তা যেনো সকলের কাছে পৌঁছে যায় সে কাজটিই করে যাচ্ছেন শাইখ সিরাজ।’
এরপরই গুসি শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান উপস্থিত থাকা চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক আদিত্য শাহিন তার বক্তব্যে গুসি শান্তি পুরস্কারের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের দেশে গুসি শান্তি পুরস্কার সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা ছিলো না। নিকট অতীতে শুধু মাত্র গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ পুরস্কারে সম্মানিত হন।
গুসি শান্তি পুরস্কার ফিলিপাইনের জন্য সাহসী উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এশিয়ার দেশ হিসেবে ফিলিপাইনের এটি একটি বড় ও সাহসী উদ্যোগ বলতে হয়। তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত জাভিয়ার গুসির মৃত্যুর পর তার ছেলে পরবর্তী কালে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা মানুষদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এই প্রাপ্তিতে আমরা সকলে গর্বিত’।
প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য চ্যানেল আই অনলাইনের ডিজিটাল অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এডিটর তৌফিক আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ফিলিপিইনের এ আয়োজন আমাকে বিস্মিত করেছে। ২৫ নভেম্বর অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়ার আগের দিন সকালে সকল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করা হয়। ১৮ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এই প্রাপ্তি পুরো দেশের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।
শাইখ সিরাজ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার কাছে এই অ্যাওয়ার্ডটি আরেকটি প্রাপ্তি হলেও চ্যানেল আই এই সকল প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে আলাদা একটি জায়গা তৈরী করে নিয়েছে। চ্যানেল আই নিজেদের কাজের মধ্যদিয়ে আলাদা প্রশংসা আদায় করে নিতে সমর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে দু’জন ব্যক্তি রয়েছেন যারা একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির দিনে আমার সামনে অস্ট্রেলিয়া তারপর অস্ট্রিয়া; এরপরই বাংলাদেশের পতাকা হাতে আমরা, যা বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের মাথা উঁচু করেছে।’
বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই প্রাপ্তির পর আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। আমরা এখন দেশ হিসেবে মধ্যম পর্যায়ে অবস্থান করছি। গত চার-পাঁচ দশকে দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দেশের মানুষের হাতে টাকা এসেছে। কিন্তু এখন রাজনৈতিক ও ক্লাইমেট চেঞ্জের এমন একটা সময়ে আমরা আছি, যে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ পেতে আমাদের ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লেগে যাবে।
এসময় তিনি মিডিয়াতে আসার জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের ভূমিকা স্মরণ করেন।
দীর্ঘ দিনের বন্ধু শাইখ সিরাজের সাফল্যে তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, শাইখ সিরাজ এমন একজন মানুষ যিনি একাধারে তার নিজের জন্য, প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছেন।
মানুষ শাইখ সিরাজের নানাদিক তুলে ধরেন তার সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করা জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল। চ্যানেল আই অনলাইনের এডিটর তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা হয়তো তার সঙ্গে কাজ করি বলে বুঝতে পারি না দেশের মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কতখানি। আমি একদিন আমার বোনের বাসা উত্তরায় বেড়াতে গেছি। এমন সময় শাইখ ভাই আমাকে ফোন করলেন। আমি ফোনে তার সঙ্গে কথা বলে রাখতেই সদ্য অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা বড় বোনের নাতি জিজ্ঞাসা করলো এটা কোন শাইখ সিরাজ। আমি তাকে যতোই বলি ‘হি ইজ শাইখ সিরাজ’, সে বলে ‘ইজ ইট ট্রু’।
‘এরকম সম্মানিত মানুষের সঙ্গে আমিও কাজ করি, এটা তার কাছে বিস্ময়ের,’ বলে মন্তব্য করেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান।
এছাড়াও চ্যানেল আইয়ের প্ল্যানিং এডিটর সাকিলা জেসমিনসহ বার্তা বিভাগের অন্যরা নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন।
(ম্যানিলায় গুসি শান্তি পদকের বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে চ্যানেল আইয়ে একটি বিশেষ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান প্রচার হবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা এবং রাত সাড়ে ১১টায়)






