গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের হামলায় নিহত ২০ নাগরিকের মধ্যে ৭ জন ছিলেন জাপানী নাগরিক। এমন হামলায় শোকে বিহ্বল বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্ব।
জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আসির আহমেদ শুক্রবারের নৃশংস হামলার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘জাপানের প্রতিক্রিয়া’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।
জুলাই ৪, সোমবার এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আজ সকালে জাইকা তে একটা মিটিং ছিল। শুক্রবার ঘটনা ঘটার পর আজই ছিল প্রথম অফিস।
অনেক জাপানিজ যারা বাংলাদেশে প্রজেক্ট করছেন বা এখন থেকে প্রজেক্ট করার জন্য পরিকল্পনা করছেন, এমন অনেক পুর্বপরিচিত, অপরিচিত লোকদের সঙ্গে দেখা হলো। কথা হলো।
কি কথা বলবো, পুরো জাপানি কায়দায় ক্ষমা চাইলাম।
-তুমি ক্ষমা চাচ্ছ কেন?
-আমার দেশে ঘটেছে যে তাই।
-আমরা বাংলাদেশ ভালো করেই চিনি। ভুল সময়ে, ভুল জায়গায় ভুল লোক গুলো ছিল।
আমাকে খুশি করবার জন্যই বলুক, এই সব কথা শুনলে মন ভালো হয়ে যায়।
গত ২৯ তারিখ জাইকা ODA লোন হিসাবে ৬ টি প্রজেক্টের জন্য দেড় বিলিয়ন ডলারের একটা এগ্রিমেন্ট করেছে। ODA এর লোন হিসাবে এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লোন। এই এগ্রিমেন্ট এ সাইন করা কলমের ভেজা কালি না শুকতেই এই ঘটনা ঘটল। ৭ জন মানুষ মারা যাওয়া জাপানের জন্য অনেক কষ্টের। একটা রিঅ্যাকশন আসবে এটাই স্বাভাবিক।
জাপানি বন্ধুদের কমেনট গুলো দিচ্ছি।
(১) আমার ছাত্রী লিখেছে – সে বাংলাদেশ পছন্দ করে। করবে। মিডিয়া হয়তো ব্যাপারটিকে অন্যরূপ দেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু বাংলাদেশ আমাদের অন্তরে আছে, জাপানিজরা যেমন শকড, আমাদের বুঝতে হবে বাংলাদেশিরা আরো বেশি শকড।
(২) পলিটিক্যালি একটা প্রভাব পড়বে। কিন্তু জাইকা যদি লোন কমিয়ে দেয়, তাহলে ভুল করবে। কারণ এতে যার খুশি হবার কথা সেই খুশি হবে।
(৩) সবগুলো পত্র পত্রিকার হাইড লাইনে বাংলাদেশ এসেছে। লোমহর্ষক ঘটনার বর্ননা এসেছে।








