গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার সাথে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ‘পুলিশের হেফাজতে থাকা’ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের বাংলাদেশ ও বৃটেনের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার না করা হলেও প্রায় ১ মাস যাবত তার খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবার-স্বজনেরা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডেপেন্ডেন্ট আজ হাসনাতের ‘প্রশাসনের হাতে আটক এবং গোপন স্থানে কারাঅন্তরীন’ থাকার খবর প্রকাশ করে।
হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে ১ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত হামলার সময় কন্যার ‘১৩ তম জন্মদিন পালন করতে’ পরিবারসহ সেখানেই উপস্থিত ছিলেন হাসনাত। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেলে হাসনাতের আর খোঁজ পাচ্ছে না স্বজনেরা।
৫ জন বন্দুকধারীর হাতে প্রায় ১০ ঘন্টা জিম্মিদশা শেষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে। কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দায় স্বীকার করা হামলাটিতে অধিকাংশ বিদেশীসহ ২০ জন জিম্মি ও ২ পুলিশ কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
হাসনাতের সাথে দেখা করার জন্য মরিয়া চেষ্টার সাথে সাথে তাকে মু্ক্ত করার জন্য প্রচারণা অভিযানে নেমেছে পরিবার। ইন্ডেপেন্ডেন্ট জানায়, আইনজীবী ও পরিবারের কাউকে দেখা করতে না দেয়ায় জাতিসংঘের নির্বিচার আটক বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপকে বিষয়টি তদন্তের জন্য বুধবার একটি পিটিশন দায়ের করেছেন হাসনাতের পক্ষের আইনজীবীরা।
হাসনাত করিমের স্ত্রী শারমিনা পারভিন দাবি করেন, মুসলিম জানার পরে এবং কুরান শরীফ তিলাওয়াত করার পরেই গুলশানের সেই জঙ্গিরা তাদের ক্ষতি করেনি। “আমরা তার পরিবার বলে নিশ্চিত হওয়ার পরেই হাসনাতকে দিয়ে বন্দুকধারীরা বিভিন্ন কাজ করায় এবং মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে” ইন্ডেপেন্ডেন্টের কাছে দাবি করেন শারমিনা।
সন্ত্রাসী হামলার পরেই ৫ জুলাই হাসানাত রেজা করিমসহ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ১৬ তারিখে গুলশানে হামলার সাথে সরাসরি জড়িত ও নেপথ্য মদদদাতাদের চিহ্নিত করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়াও রহস্য উৎঘাটনসহ ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎসের সন্ধান পাওয়ার কথাও পরে জানানো হয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী গুলশান হামলার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে হাসনাত করিমের। তার মোবাইল থেকে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে জঙ্গিরা হামলার ছবি প্রকাশ করে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। আবার আটককৃত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রোভিসি গিয়াস উদ্দিনের আহসানের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাটটিতে জঙ্গিদের বাসা ভাড়া নিতে সাহায্য করেছিলেন হাসনাত এবং তার নির্দেশনাতেই জঙ্গিরা ক্যাফেটিতে প্রবেশ করে বলে সম্প্রতি এক গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রে দাবি করে।
বাংলাদেশে জন্ম নিলেও কিশোর বয়সেই যুক্তরাজ্যে চলে যান হাসনাত। লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন এবং লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ফিরেন। ২০০৮ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।









