রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত আরেক জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম রায়হান কবির। গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করেছে, গুলশান হামলার অন্যতম প্রশিক্ষক ছিলো সে। অভিযানে আহত রিগানসহ ১০ জনের নামে মিরপুর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে পুলিশ মামলা করেছে।
কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন স্টর্ম টুয়েন্টি সিক্সে নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে বুধবার ৭ জনের পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আরেক জঙ্গির নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তার নাম রায়হান কবির। বাড়ি রংপুর উপজেলার পীরগাছায়। তার বাবার নাম শাজাহান কবির। রায়হান মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো।
এ নিয়ে ৮ জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মো: মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত রায়হান কবির জেএমবির ঢাকার কমান্ডার ছিলো।
তিনি বলেন, রায়হান কবিরের নাম অাগে তারেক হিসেবে জেনেছিলাম। এই তারেক গত ডিসেম্বরে আশুলিয়ার বারোপাড়ায় পুলিশ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। তাকে আমরা তারেক নামেই এতোদিন খুঁজছিলাম। কিন্তু এখন আমরা দেখছি তার ডাকনাম তারেক ছিল না। তার পরিবার তারেক নামে তাকে চিনে না।
কল্যাণপুরে অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া আরেক জঙ্গির সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
হুজি পরিবারের জন্য অর্থ সহায়তা
মনিরুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) ঢাকা মহানগর কমান্ডার নাজিমুদ্দিন শামীমসহ গ্রেফতার অন্য তিনজনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা হুজি সদস্যদের ৫১টি পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বিদেশে যারা যুদ্ধরত বা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারসহ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জঙ্গিদের পরিবারগুলো ওই আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। দেশের ভেতরেই কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।
শামীমসহ গ্রেফতার জঙ্গিদের তথ্য অনুযায়ী মহানগরী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সগির বিন এমদাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার জিহাদি বই জব্দ করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২১ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থেকে হুজির ঢাকা মহানগরীর কমান্ডার নাজিমুদ্দিন শামীম এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।








