রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জিম্মিদের উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি শেষ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; যে কোনো সময় শুরু হবে অভিযান। জিম্মিদের উদ্ধার করতে বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল উইপেন্স এন্ড টেকটিকস) সোয়াটের সঙ্গে ভোর ৪টার পর থেকেই পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, নৌ-বাহিনী কমান্ডো দল সীল এবং সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের সমন্বয়ে এ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায় রাত গভীর হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতিতে নিতে শুরু করেন। শুরুতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সোয়াটের উপস্থিতি থাকলেও রাতের শেষ দিকে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো দল।
ভোর চারটার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংবাদকর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই চূড়ান্ত অভিযানে নামবে যৌথবাহিনী।
এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা এবং জিম্মি ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পরিষ্কার্ করে কিছু বলছে না।
ঘটনাস্থলেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে গলায় গুলিবিদ্ধ হন মাইক্রো বাস চালক আব্দুল রাজ্জাক। পুলিশের অপর দুই কনস্টেবলের পায়ে ও মুখে গুলি লাগে। পুলিশের আহত সদস্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এরআগে গুলশানের ৭৯ নং রোডের হলি আর্টিজেন বেকারিতে সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে সন্ত্রাসীদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ ইউনিট হোটেল থেকে জিম্মিদের উদ্ধারের পরিকল্পনা করছে। হোটেলটির আশে পাশের লোকজন জানিয়েছে সন্ত্রাসীরা আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে।
রাত পৌনে ৯টার দিকেরেস্টুরেন্টের ভেতর ৮-৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে ফাঁকা গুলি ছোড়া শুরু করে। গুলির শব্দ পেয়ে টহল পুলিশ ওই এলাকায় এলে তাদের ওপর সন্ত্রাসীরা গুলি ও বোমা বর্ষণ শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হোটেলের আশপাশ এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হওয়ার পর আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ এখন গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জন বিদেশি জিম্মি রয়েছে; তাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি এবং দু’জন শিশু রয়েছেন বলে জানা গেছে।







