অভিনয়ের সুবর্ণা মুস্তাফা বললে ভেসে ওঠে গভীর চরিত্র বৈচিত্রে ভরা মায়ামাখা একটা মুখ। কি মঞ্চ, কি টেলিভিশন অথবা চলচ্চিত্র! সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর কেবল নির্দিষ্ট করে চলচ্চিত্রের সুবর্ণা মুস্তাফা বললে একটা কথা বাজবে কেবল আপামর বাংলাদেশী বা বাংলাভাষীদের হৃদমাজারে, তা হলো-আরো বেশি কি পাওয়া যেতনা তাকে। যেন ইচ্ছাকৃত অপূর্ণতায় অপেক্ষা করিয়ে রাখা অসাধারণ অভিব্যক্তি।
‘চলচ্চিত্র সব সময় আমার ভালোবাসার সীমানায় ছিল। তবে সে ভালোবাসাটা গদগদ নয়। বোধের। দেখবেন আমি কিন্তু খুব কম চলচ্চিত্র করেছি। যাই করেছি নিজের পছন্দের আওতায় থেকে করেছি। আর আমার কাছে ‘গহীন বালুচর’ কেবল চলচ্চিত্র নয়, আমার সন্তানও । আমি চলচ্চিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক। অভিনয়ও করেছি। এ চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় যে প্রভাবটা পড়বে বলে আমার মনে হয় তা হলো নতুন তিনটা ছেলেমেয়ে পাবে ইন্ডাস্ট্রি। যাদের বহুমাত্রিক ভাবে কাজে লাগাতে পারবে ইন্ডাস্ট্রি। যদি ইন্ডাস্ট্রি চায়। পাবে একজন পরিচালক। যে লম্বা রেসের ঘোড়া হবে। পাবে হৃদয় চেরা বিনোদন। যা আপনি চাইলেও এড়াতে পারবেন না।’ চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে শুরু হয় ‘গহীন বালুচর’ ভ্রমণ। কিংবা অতল শিল্পী স্বত্ত্বায় অবগাহন।
‘৩৩ বছর পর রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয়? মাঝের বিরতির দূরত্বটা অনেক মনে হয় না?’ প্রশ্ন শুনে কিছুটা স্মৃতিকাতর এবং আবেগপ্রবণ ‘নয়নের আলো’র নয়ন। বলেন, ‘আসাদতো আমার বন্ধু। বন্ধুর সঙ্গে কোন বিরতি হয় না। দূরত্ব থাকে না। সেটা আমাদের নেই। তবে হয়তো এই তিন দশ তিন বছরের সেলুলয়েড বিরতিটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। আমরাতো সময়ের ক্রীড়ানক ছাড়া কিছু নই। আমাদের দুজনের অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো দেখেন। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীর ‘ঘুড্ডি’, সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’, কাজী জহিরের ‘নতুন বউ’ আর সবশেষতো বেলাল ভাই মানে আমাদের বেলাল আহমেদ এর ‘নয়নের আলো’ ১৯৮৪ তে। তারপর সেরকম স্ক্রীপ্ট হয়তো পাইনি আমি। আসাদও পায়নি। তাই সেলুলয়েড ভাগাভাগি হয়নি। ওই যে বললাম সময়ের প্রয়োজনে হয়ে ওঠেনি।’

‘চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক সঙ্গে সেই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, মনোসংযোগে বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি?’ উত্তর দেন ‘ঘুড্ডি’র ঘু্ড্ডি। অনেকটা গোত্তা খেতে খেতে যেন। ‘হ্যা, জটিলতা ছিল। কারণ ১কোটি ২০ লাখ টাকা সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে। অনুদান পেয়েছি ৪০ লক্ষ। বাকীটা অ্যারেঞ্জ করা। সব কিছু ঠিক রেখে, সাবইকে ঠিক রেখে আমার লতিফা চরিত্রটিকে নিজের ভেতরে নেওয়া! অসম্ভব পরিশ্রম গেছে। সেই পরিশ্রমের ফসল মিলবে দর্শক যদি অন্তত দেখে মানসিক ভাবে তৃপ্ত হন। ব্যবসায়িক সাফল্যের অংকে ভাবিনি। তার মানে ব্যবসা না করুক সেটা কিন্তু বলছিনা। স্রেফ ব্যবসাটা যেন মুখ্য না হয় তা ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। অনুদানের ছবি মানে ব্যবসাকে ঝেটিয়ে বিদায় করা সে প্রবণতাকে দূরে রাখার সচেতন চেষ্টা করেছি। সে জায়গাটায় আমার অভিনেত্রী বা শিল্পী স্বত্ত্বার প্রবৃত্তিকে কাজে লাগিয়েছি।’
‘একদম নতুন তিনটি মুখ। আপনার বা আসাদ ভাইয়ের মত অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছে। এই নতুনদের কেমন দেখলেন?’ এবার যেন ‘কমান্ডার’ সুবর্ণা মুস্তাফা। যাকে ইউনিটের সবাই ডাকত বাঘ বলে। তিনি বলেন, ‘আসাদ কিভাবে মূল্যায়ন করবে জানিনা তবে আমার নির্মোহ মূল্যায়ন যদি জানতে চান সত্যি তারা মেধাবী। তবে, তাদের বিনয়ী থাকতে হবে। লিখে রাখুন ‘গহীন বালুচর’ এই তিনজনকে চলচ্চিত্রের শক্ত জমিনে শক্ত ভিত্তি হিসেব দাড় করিয়ে দেব। কিন্তু সেখান থেকে ফল বের করে নিয়ে আসা বা বাছাই করে কাজ নিয়ে নিজের জায়গা তৈরী করতে হবে তাদেরই। এখানে তাদের রুচি নির্ধারণ করবে তারা কোন জায়গায় যেতে চায়।’
ছবি: তানভীর আশিক








