গল টেস্টে সব বিভাগেই মুশফিকদের এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক রকিবুল হাসান। তিনি মনে করছেন, এবারের টেস্ট ম্যাচটা হবে আরও রোমাঞ্চকর। ড্র নয়, বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আছে।
মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ‘জয় বাংলা কাপ’ বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২০১৩ সালের মার্চে সবশেষ সিরিজে এই মাঠেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন মুশফিকুর রহিম। মোহাম্মদ আশরাফুল করেছিলেন ১৯০ রান। পরে নাসির হোসেনের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার করা ৫৭০ রানের জবাবে ৬৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ ড্র করেছিল সফরকারীরা। তিন বছর পর মার্চ মাসেই আবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। ঘুরে ফিরে তাই আলোচনায় চার বছর আগে গলে মুশফিকবাহিনীর ড্রয়ের সেই সাফল্যগাঁথা।
সোমবার মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি হয়ে রকিবুল বললেন, ‘আমি তো মনে করি এবার দুর্দান্ত একটা টেস্ট ম্যাচ হবে। গলে সমানে সমান লড়াই হবে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভালো ফর্মে আছে। বোলিংয়ে বিশ্বমানের স্পিনার আছে আমাদের। মোস্তাফিজ ফিট, তাসকিন ভালো বোলিং করছে। তাছাড়া গল পয়মন্ত একটা ভেন্যু আমাদের জন্য। এখানে মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি আছে। আশরাফুলের ১৯০ রান। সব মিলিয়ে আমি মনে করছি লড়াকু একটা টেস্ট ম্যাচ হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো যারা প্রথমদিন গেমটাকে কন্ট্রোল করতে পারবে, তারাই জয়ের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে ‘ট্যালেন্ট’ অ্যাখ্যা দিয়ে রকিবুল বলেন, ‘স্পিন আক্রমণে আমাদের কম্বিনেশন খুব ভালো। একইসঙ্গে তাসকিন খুব ভালো বোলিং করছে। তার ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। মোস্তাফিজ ইনজুরি থেকে উঠে এসে ভালো বোলিং করছে। সবমিলিয়ে ট্যালেন্ট বোলিং অ্যাটাক।’
ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে ভরসা রাখছেন মুশফিকুর রহিমের ওপর। এছাড়া তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের কাছেও প্রত্যাশা রাখছেন ভালো কিছুর, ‘মুশফিক হয়তো চার নম্বরে নামবে। এই পজিশনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই ইনিংসটা টেনে নিতে হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের কাছ থেকেও ভালো কিছুর আশা থাকবে। তামিম ফর্ম ফিরে পেয়েছে। ট্যালেন্টেড সাকিব আল হাসান আছে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। ব্যাটিং অর্ডার ভারসাম্যপূর্ণ। কাউকে খুব বেশি আলাদা করা কঠিন।’
ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞতায়ও বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন রকিবুল, ‘শ্রীলঙ্কা দলে যে দিকপালগুলো ছিল, যারা পুরো টিমকে ধরে রাখতো, সেই ক্রিকেটাররা এখন নেই। বোলিংয়ে মুরালিধরন, ব্যাটিংয়ে সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, দিলশান তারা এখন নেই। সেই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে তবে পুরোপুরি হয়নি। কাজেই কাজে-কলমে কিছুটা অনভিজ্ঞ থাকবে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা, এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই।’
একইসাথে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য একটি হুমকির কথাও মনে করালেন রকিবুল। বাড়তি সতর্ক থাকতে বললেন লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের বোলিংয়ের বিপক্ষে, ‘স্পিনে হুমকি থাকবে। রঙ্গনা হেরাথ তো বিশ্বমানের বোলার। তাছাড়া শ্রীলঙ্কার স্পিন অ্যাটাক ঐতিহ্যগতভাবেই ভালো।’
লিটন দাস উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলায় দল থেকে বাদ পড়তে পারেন সাব্বির রহমান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মধ্যে কেউ। যে-ই বাদ পড়ুক ব্যাটিং লাইনআপে বাংলাদেশের কোনো দুর্বলতা থাকবে না বলে মনে করেন রকিবুল। এ ব্যাপারে তার যু্ক্তি, ‘লিটন খুব ভালো একজন ব্যাটসম্যান। স্পেশালিষ্ট উইকেটকিপার, ব্যাটসম্যান হিসেবেও ভালো। তার জুড়ি নেই। প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো করলো। লিটনের অন্তর্ভুক্তিতে অবশ্যই আরেকজন ব্যাটসম্যানকে সরে যেতে হবে। মাহমুদউল্লাহ নয় তো সাব্বির। এদের মধ্যে থেকেই একজন। হয়তো সাব্বিরকেই বাইরে থাকতে হবে। সে যাই হোক, লাইনআপে সাতটা ব্যাটসম্যান থাকবেই। সমস্যা হবে না।’
সবশেষে জয় পেতে হলে কী করতে হবে তাও বাতলে দিলেন রকিবুল, ‘টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে ২০টা উইকেট নিতে হবে। ভালো বোলিং করতে হবে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভালো করতে হবে। তার সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের সাপোর্ট থাকতে হবে। এসব মিলিয়েই একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে হয়। পাঁচটা দিনের খেলা, ১৫টা সেশন। আটটা সেশন ডমিনেট করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে ম্যাচটা জেতা সম্ভব।’








