গর্ভনিরোধে পুরুষের ইঞ্জেকশনের পথে বাধা পুরুষের মর্জি । যৌন সম্পর্কে শরীরের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন। সেই মনের মেজাজ-মর্জিতে কিছু নেতিবাচক প্রভাবই নারীর গর্ভনিরোধে পুরুষের হরমোন ইঞ্জেকশনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
না হলে বলাই যেতো, গর্ভনিরোধের স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতির জন্য যে দায় মূলত নারীর উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় তার ভার পুরুষও নিতে পারে এখন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা পুরুষের জন্য এমন হরমোন ইঞ্জেকশনে সাফল্য পেয়েছেন যা একদিকে নিরাপদ এবং অন্যদিকে কার্যকর। প্রায় ৩’শ পুরুষের ওপর ওই ইঞ্জেকশনের প্রভাব বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, ৯৬ ভাগ ক্ষেত্রেই এটা নারীর গর্ভনিরোধ করে।
কিন্তু, ইঞ্জেকশনটির এমন কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে যা পুরুষের মেজাজ-মর্জিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যৌন সম্পর্কের সময়ও মেজাজটা অনেক সময় ঠিকঠাক থাকে না। পুরুষের জন্য আরেকটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ব্রণ।
গবেষকরা অবশ্য বলেছেন, নারীর ক্ষেত্রেও এ জাতীয় ইঞ্জেকশন পদ্ধতি প্রায় একইরকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারপরও বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবার পরিকল্পনার জন্য পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন এন্ডোক্রাইন সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে পুরুষরা গবেষণার অংশ ছিলেন আগেই তাদের পরীক্ষা করে দেখা হয়। শুধুমাত্র সন্তান জন্মদানে সক্ষম পুরুষদের উপরই ব্যবহার করা হয় হরমোন ইঞ্জেকশন। যে নারীদের সঙ্গে তাদের যৌন সম্পর্ক হয় তাদের কাছ থেকেও আগেই পরীক্ষাটির ব্যাপারে অনুমতি নিয়ে রেখেছিল গবেষকদল।
মন-মেজাজ নিয়ে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার পরও গবেষণার অংশ হওয়া ৭৫ ভাগ পুরুষ বলেছেন, তারা আবার এ ইঞ্জেকশনটি ব্যবহার করতে আগ্রহী।
‘সুতরাং, সব পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াই খারাপ না,’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ডের অধ্যাপক অ্যালান পাসি।








