নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দারুল ফালাহ দাখিল বালিকা মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রমের নামে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় এ মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানে আছেন ১৫ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কিছু অসাধু শিক্ষক কিভাবে পুরো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে পারে, দারুল ফালাহ মাদ্রাসা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।’
ইউএনও জানান, মাদ্রাসার ক্লাস চলছে গরু–মুরগির খামারে। প্রতিটি শ্রেণিতে বরাদ্দ রয়েছে একটি বা সর্বোচ্চ দুটি বেঞ্চ। শিক্ষার্থীরা নিজেদের রোল নম্বর পর্যন্ত বলতে পারছিল না। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার পর শিক্ষকরা ২৪০ শিক্ষার্থীর তালিকা জমা দিলেও সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেছে মাত্র ২৭ জন।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, নিজস্ব জায়গা নিয়ে জটিলতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তার ভাষায়, ‘ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি কখনো মিথ্যার ওপর দাঁড়ানো উচিত নয়। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও শামসুদ্দোহা অভিযোগ করে বলেন, এ মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন, কিন্তু শিক্ষা নেই। এটি এলাকার জন্য লজ্জাজনক। প্রধান মাওলানা ইমাম হোসাইন দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও প্রধান মাওলানা ইমাম হোসাইনের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইউএনও আরিফুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন। মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, গোয়ালঘরের একটি কক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস চলছে। প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন ২৪০ শিক্ষার্থী আছে, কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র ২৭ জন।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্তির সময় মাদ্রাসার সুপার অর্থের বিনিময়ে আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেন। গত পাঁচ বছরে এ মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় কখনো সর্বোচ্চ ১০ জনের বেশি অংশ নেয়নি। এবছর চারজন অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে।
ইউএনও চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠায় গত দুই মাস ধরে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষকরা বেতন চালুর অনুরোধ জানালে তিনি সরেজমিনে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন।







