নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় দেশসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। গতকাল প্রতিবাদী ভাষায় কান ধরে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করে এমন অমানুষিক কাজের নিন্দা জানান অনেকে। প্রথম কানে ধরা ছবি পোস্ট করেন প্রবাসী বাংলাদেশী আশা নাজনীন।
তবে কান ধরে ওঠবস করা এমন ইভেন্ট নিয়েও অনেকে আবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সে বিষয়ে অবশ্য আশা নাজনীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন প্রতিবাদী ইভেন্ট সম্পর্কে।
তিনি লিখেছেন:
১. আমার প্রতিবাদের ভাষা কেন আপনার মনমত হতে হবে? যদি আপনের মনমত প্রতিবাদের ভাষা আমি প্রকাশ করি, তবে তা আর প্রতিবাদ থাকে না। এই দেশে সরকার ফ্যসিবাদী না। ফ্যসিবাদী হচ্ছেন আপনারা, যারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে গিয়া, আঁতলামি শুরু করেন।
২. আমি নিজের কান ধরা ছবি আপলোড করাতে আপনাদের যে ক্ষোভ দেখলাম (আমার ইনবক্সে), আমিন জুয়েলার্স এর গয়না পরে ‘নারীর প্রথম অহংকার’ কইলেও আপনাদের এত ক্ষোভ দেখ্তাম না।
কারণ, গয়না একটা বিশেষ ক্লাসের। সবার পরনের ক্ষমতা থাকেনা। অতএব, বুর্জোয়া বইলা আমারে আলাদা ট্যাগ দেওয়া যাইত।
নিজের কান নিজে ধরে ছবি তোলা সমাজের সব শ্রেণী এফোর্ড করতে পারে। এইখানে তা হইছে। সবাই দলে দলে একজন অপমানিত শিক্ষকের পাশে দাঁড়াইছে – এটা প্রতিবাদের জোরালো ভাষা হয়ে উঠছে।
৩. আপনারা অনেকেই খেপে গেছেন, কেন ঘরে বসে এই সহজ পন্থা বেছে নিছি?এই কারণেই নিছি যে, এছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আমি কোন ব্লগার না যে লিখে ফাটায়া ফেলব। কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা সোশাল একটিভিস্ট না। যে দলে দলে লোকজন ডাক দিব। জনসভার ডাক দিব।
আইনের কেউ না যে মামলা মোকাদ্দমা করব। আমি দেশে থাকিনা যে দৌড়ে ওই শিক্ষকের বাসায় গিয়ে খোঁজ খবর নিব। তাই প্রতিবাদ হিসবে নিজের কান ধরা ছবি দিছি। সত্যি বলতে কি, লিপস্টিক আর কাজল পরে ছিলাম। ঐগুলো মুছে খুব সাধারণ একটা ছবি-আটপৌড়ে ছবি দিলাম।
আমার প্রতিবাদে আমি কাউরে যোগদান করতে বলি নাই। ওই ছবি দেখে যাদের ইচ্ছা হইছে, যারা একটিভিস্ট তারা ইভেন্ট খুলছে, স্যরি বলছে। আমি ছবি আপলোডের পরে প্রথম ইভেন্টটা সম্ভবত শামীম হক খুলছে।
শাবি এর শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যে ভিজে কানে ধরে দাঁড়িয়েছিল। তাদের আমার অভিনন্দন। কিন্তু ‘স্যরি’ বলাতে দেখি আপনাদের খুব কষ্ট হইতেছে।
৪. আমার প্রশ্ন-প্রতিবাদকারীদের সমালোচনা করা ছাড়া আপনারা আর কি করছেন? ওই শিখ্খকের খোঁজ খবর নিছেন? তার বাসায় গেছেন? তারে আইনের আশ্রয় নেবার পরামর্শ বা অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করবেন এইরকম কোনো কিছুর জন্য হাত বাড়ায়া দিছেন? জানি, কিছুই করেন নাই।
৫ . আজকে যদি ছবি দিয়ে এইরকম গণ প্রতিবাদ না হইত, তবে তা মন্ত্রী-মিনিস্টার এর চোখে পড়ত না। যদিও আমি তাদের দেখানোর জন্য, এই ছবি দেই নাই। তথাপি গণহারে কানে ধরে এই ছবি তোলার ঘটনায় এখন মন্ত্রী মিনিস্টাররা সামাজিক মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এইটাই আমার এবং আমাদের অর্জন।
যদি আমি এবং আমরা ছবি না দিতাম, আপনারা তখন বলতে পারতেন,’ ইস, এইভাবে একজন শিক্ষককে কানে ধরানো হইছে, আর অনলাইনে কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না।’
৬. এখন আপনাদের ভেতরের সেই গোপন সাম্প্রদায়িকতার রূপটা বের হয়ে গেছে। আপনারা ভাবতেছেন, ‘হিন্দুরে কানে ধরানো হইছে, তাই বইলা গোটা দেশ এইভাবে কানে ধরে বিষয়টাকে (কানে ধরা) হালকা কইরা ফেলল? এইটা হইল কিছু?’
আপনারা যারা ওই শিক্ষকরে হালকা ভাবছিলেন, তারা জেনে রাখেন, তিনি হালকা নন। তার পাল্লায় আমরা সবাই আছি। সামান্য একটা ছবি দিয়ে হলেও।







