ইউরোপজুড়ে ফুটবল লিগগুলো যখন বিরতি নিয়ে বড়দিন ও নতুন বছর উদযাপনে ব্যস্ত; ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলাররা তখন মাঠে ঘাম ঝরিয়েই চলেছেন, ব্যস্ততা বল পায়ে দর্শকদের বিনোদন দিতে। মানে, নেই কোন অবসর, বিরামহীন খেলে যাওয়া। টানা খেলে যাওয়ায় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা যখন চোটে পড়তে থাকেন, তখন আবার কোচের মেজাজ ধরে রাখাও দায়।
চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির দুরন্ত গতিতে ছুটে চলার অন্যতম কারিগর গ্যাব্রিয়েল জেসাস। কদিন আগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে পড়েছেন চোটে। ছিটকে গেছেন ছয় সপ্তাহের জন্যে। অল্পের জন্য চোট থেকে বেঁচে গেছেন দলটির প্রাণভোমরা কেভিন ডি ব্রুইন। চোটে ধুঁকছেন সিটিজেনদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কাইল ওয়াকার।
বিরামহীন খেলার সূচিতে তাই বড্ড খেপেছেন ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। রোববার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচের একদিন বাদেই মঙ্গলবার ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে হয়েছে তার দলকে। ছুটির দিনগুলোতে দর্শকদের বিনোদনের নামে খেলোয়াড়দের চোটের মুখে ঠেলে দেয়ার রীতি প্রিমিয়ার লিগের শতাব্দী পুরনো ঐতিহ্য। সেটিকে মোটেও সুখকর মানছেন না স্প্যানিশ কোচ।
‘গত সপ্তাহে কতজন খেলোয়াড় চোটে পড়েছে তা সবাই দেখেছে। আমরাই ওদের সম্ভাবনাকে খুন করছি! ফেডারেশনের কর্তাদের এ নিয়ে কিছু করা উচিত। ৩১ ডিসেম্বরের একদিন বাদেই আবারও মাঠে নেমে পড়া, এটা মোটেও স্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়।’
‘আমি জানি, খেলা তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। কিন্তু এভাবে বিরামহীন খেলাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খেলোয়াড়দের রক্ষার জন্য এখানে কোন ব্যবস্থাই নেই। জনগণ খেলোয়াড়দের দেখতে মাঠে আসে। কোচ কিংবা সংবাদ সম্মেলন দেখতে নয়, খেলোয়াড়দের দেখতে।’ যোগ করেন গার্দিওলা।
‘ইংল্যান্ডে খেলোয়াড়দের রক্ষার কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয় না। আপনি মোটেও দুদিন পরপর মাঠে নামতে পারেন না। আমাদের এ বিষয়ে অল্প করে হলেও ভাবতে হবে। খেলোয়াড়রা শিল্পীর মত, তাদের জন্যই আজ আমরা এখানে। আপনারা মানসম্পন্ন খেলা দেখতে যান, মাঠ ভর্তি খেলোয়াড় নয়।’ ক্ষোভের যেন শেষ নেই গার্দিওলার।








