নারীই খুচরা বিক্রেতা, নারীই পাইকার, বাজারের নিয়ন্ত্রণও নারীর হাতে। এমন একটি কৃষিবাজার রয়েছে খুলনার বটিয়াঘাটার প্রত্যন্ত গ্রামে। নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদিত পণ্যসহ গ্রাম থেকে কিনে আনা পণ্য বিক্রি করেন বাজারে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা বাজারে এই নারী কৃষি বাজারটি বহুদিনের পুরনো। তৃণমূল পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীদের এই উপস্থিতি পাল্টে দিয়েছে এলাকার আর্থ সামাজিক চিত্র।
স্থানীয় নারী কৃষকরা জানান, ১০ হাজার টাকার মাল কিনলে ৫০০ টাকা থাকে। বেচা কেনা যাই হয় তা দিয়ে চাল-ডাল কেনা, ঔষধপাতি, ডাক্তার-কবিরাজ খরচ চলে যায়। এই কাঁচামাল বিক্রি করে সংসার সচল হয়েছে বলেও জানান একজন। ভালো আয় উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত ২-৩ লাখ টাকা উন্নতি করছি।
তবে নারী বিক্রেতাদের বাজারে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচেই করতে হয় লেনদেন। নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্যানিটেশন সুবিধা।
স্থানীয় নারী কৃষকরা বলেন, এই জায়গায় আলো থাকলে আমরা রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত কেনা-বেচা করি। আলো পেলে আমাদের বেচাকেনা ভালো হতো। আমরা মহিলারা অতিরিক্ত কষ্ট করি। ঝড় বর্ষা আমাদের মাথার উপর দিয়ে বয়ে চলে যায়।
এখানে বেশিরভাগ নারীই পুরুষের পাশাপাশি মজবুত করেছেন তাদের অবস্থান। স্থানীয় ক্রেতারা জানান, একার আয়ে সংসার চলে না। নারী-পুরুষ সবারই এগিয়ে আসা উচিত।
বাজারটি দেখে দ্রুত অবকাঠামোগত নির্মানসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিভাগীয় প্রশাসন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. আবদুস সামাদ বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এই বাজারের আরও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে নারী কৃষি বাজার। আর ১০০ থেকে ১৫০ নারী বিক্রেতা প্রতিদিন বাজারে আসেন তাদের পণ্য বিক্রি করতে।






