তিন সংস্করণেই দারুণ একটি বছর কাটিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার উইন্ডিজের বিপক্ষে বছরের শেষ ম্যাচ। অলিখিত ফাইনালে রূপ নেয়া টি-টুয়েন্টিটি জিতলে নিজেদের হবে সিরিজটাও। বাড়তি মাত্রা যোগাবে ট্রেবল জয়ের আনন্দ। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টির কোনো পূর্ণাঙ্গ সিরিজে প্রথমবার তিন ফরম্যাটের ট্রফিই হাতে তোলার আনন্দ নিয়ে বছর শেষ করতে চাইছে টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার মিরপুরে সমতায় ফেরার ম্যাচে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগে সেটিই বড় অনুপ্রেরণা। টাইগারদের স্পিন বোলিং কোচ সুনিল যোশি যেমন বললেন, ‘আগের ম্যাচে যা ভালো হয়েছে সেদিক মাথায় রেখেই আমরা নামতে চাই। ইতিবাচক যা ঘটেছে তাই আমাদের পুঁজি। ভালো করতে সেদিকেই আমরা তাকাব। চাই যে দেশে ফেরার আগে ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ারের উপহার পেতে।’
সিলেটে উইন্ডিজ বোলার-ব্যাটসম্যানদের দাপটের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ভরাডুবির পর মিরপুরে দুর্দান্ত প্রতাপে ফিরে আসে লাল-সবুজরা। ক্যারিবীয়দের ৩৬ রানে হারিয়ে নেয় মধুর প্রতিশোধ। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে হোম অব ক্রিকেটের গ্যালারির দর্শক-গর্জনও।
যোশিও উপলব্ধি করেন এখানকার দর্শক ভালো করতে উৎসাহ যোগায়, ‘আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি। ছেলেরা সিলেটে যেভাবে খেলেছে, সেখান থেকে মিরপুরে খেলার ধরণ একদমই ভিন্ন ছিল। অসাধারণ মনোভাব নিয়ে খেলেছে সবাই। দারুণ জয়ের পর হোটেলে খুব আনন্দে কাটছে ক্রিকেটারদের সময়। মিরপুর বাংলা টাইগার্সদের লাকি ভেন্যু। একযুগে এখানে অনেক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এখানকার দর্শকও খুব অনুপ্রেরণাদায়ী। তার মানে এটা না সিলেটে সমর্থন ছিল না। তারাও ভালো।’
সিরিজে সমতা ফেরার পর সংবাদ সস্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও মিরপুরে গ্যালারিভরা দর্শকের সামনে খেলা ভিন্ন এক অনুভূতি তৈরি করে বলে জানিয়ে যান।
‘সম্ভাবনা(সিরিজ জয়) তো আছে। আমি ম্যাচ শুরুর(দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি) আগে বলেছি এই কন্ডিশনটা ওদের থেকে আমাদের বেশি মানানসই হওয়া উচিত। আমরা এখানে সবসময় ম্যাচ খেলি, আমাদের প্রতিটা খেলোয়াড় অসংখ্য ম্যাচ খেলেছে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে, আমাদের জন্য এই মাঠ অনেক পরিচিত।’
‘সেই হিসেবে সিলেট অত পরিচিত না, আমরা খুব কম ম্যাচ খেলেছি ওখানে। হয়তো যারা ওইরকম বেশি ঘরোয়া খেলে না তাদের জন্য নতুন কন্ডিশন বলবো সিলেটকে। সেদিক থেকে মিরপুর আমাদের জন্য অনেক পরিচিত। সাপোর্টটা খুব গুরুত্ব বহন করে থাকে মিরপুরে। দর্শকদের কম্পন অনুরণন ছড়ায়। আমার কাছে মনে হয় এটাও অনেক ইতিবাচক একটা দিক, পরের ম্যাচের আগে।’







