কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না, অভিযোগ করে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সবশেষ গত ৪ মে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর আর অনুমতি পাচ্ছেন না। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎ সম্ভব হচ্ছে না।
ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে সরকারের নিরাপত্তার মধ্যেই আছেন। যারা সাক্ষাতপ্রার্থী হচ্ছেন তাদের সাক্ষাৎ দিতে নিরাপত্তজনিত কারণ কেন হবে, বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানতে আমরা খবর নেয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। তার শারীরিক অবস্থা কেমন সে সম্পর্কে জানতে পারছি না। অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে গণমাধ্যমকে ডেকেছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিন মাস ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। প্রথম যখন দেখা করতে গিয়েছি উৎফুল্ল হয়ে কথা বলেছেন। তিনি ভিজিটর রুমে এসে কথা বলেছেন। এরপর কয়েকবার গিয়েছি প্রতিবারই ভিজিটর রুমে এসে কথা বলেছেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে তিনি ভিজিটর রুমে আসতে পারছেন না। যে কারণে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দিয়েও তা বাতিল করা হয়েছে। তার শরীরের অবস্থা এত খারাপের দিকে গেছে যে, তিনি আসতে পারছেন না।

ফখরুল বলেন, কারাগারে নেয়ার পর থেকে ক্রমেই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। আমরা বারবার বলেছি, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করার। সেটা তো করা হয়নি, উপরন্তু উদ্বেগের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তার চিকিৎসকরা বলেছেন সুচিকিৎসা না হলে পরিণতি কী হতে পারে? তিনি প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন। স্মরণশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন। আরও মারাত্মক অবনতি ঘটতে পারে। তারপরও কোন কারণে চিকিৎসা হচ্ছে না আমাদের বোধোদয় হচ্ছে না।
কারাগারে খালেদা জিয়াকে নূন্যতম সুযোগ দেয়া হচ্ছে না, অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল অবিলম্বে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।








