দুর্নীতির দায়ে আটক হওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো না হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে আর বাধা নেই। জামিনের পর এখন অপেক্ষা মুক্তির। অপেক্ষা কারাগার ছেড়ে ঘরে ফেরার।
সোমবার দুপুর সোয়া ২টায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় ৪ মাসের জামিন আদেশ দেন। একইসঙ্গে আপিল শুনানির জন্য আগামী চার মাসের মধ্যে পেপার বুক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
৩২ টি দিন নাজিম উদ্দীন রোড়ের পুরনো কারাগারটি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলো বেশ। নাজিম উদ্দীন রোডের ব্যবসায়ী, এলাকার লোকজন খালেদা জিয়াকে নিয়ে ছিলো বিচলিত। চলাচলে পুলিশি তল্লাশিতে যে নাভিশ্বাস উঠেছিলো অবশেষে তার অবসান হয়েছে এখানকার লোকজনের।
তবে আজই কারামুক্তির সম্ভাবনা কম খালেদা জিয়ার। বিকাল ৫টার মধ্যে আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছালে আজই মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া। আর যদি না পৌঁছে তাহলে অপেক্ষা করতে হবে আরো একটি দীর্ঘ রাত, যে রাত হয়তো তার জীবনের দীর্ঘতম রাত হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ যদি আজ ৫টার আগে পাঠানো হয় তাহলে আজকেই ম্যাডামের মুক্তি হতে পারে। তবে চেম্বার জজে আদেশ স্থগিত চেয়ে আগামীকাল আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সেক্ষেত্রে খালেদার কারামুক্তির অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হতে পারে।
গতকাল রোববার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য কার্যতালিকার শীর্ষে রাখা ছিল। কিন্তু মামলার নথি না পৌঁছানোয় জামিনের ব্যাপারে আদেশের জন্য সময় পিছিয়ে সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত।
এর পর রোববার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের নথিপত্র হাইকোর্টের আদান-প্রদান শাখায় পৌঁছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে ৬ আসামিকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই কারাবন্দি আছেন।








