বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্য স্ববিরোধী ও সরকারের চিন্তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়াকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নিয়ে যাওয়ার জন্যই সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী মেডিক্যাল বোর্ড ‘ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিবেদন’ বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গঠিত সরকারি মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ একদেশদর্শী ও সার্বজনীন চিকিৎসা নীতির পরিপন্থী। একজন রোগীকে তার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া উচিত, এটি তার মানবাধিকার। সেটি না করে কর্তৃপক্ষ জোর করে নিজেদের পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো চরম প্রতিহিংসা পরায়ণ জেদের প্রকাশ।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা বারবার বলে এসেছি-অবৈধ আওয়ামী সরকার ও সরকার প্রধান সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতা চরম শোচনীয় অবস্থায় উপনীত করার চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। সরকারি দলের অনুগত চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে দেশনেত্রীকে বিশ মিনিটে তথাকথিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন।
‘গতকাল (রোববার) মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, কোনো আশঙ্কার কারণ নেই, তার সব ধরনের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল)।
পরিচালককে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা বলেছেন, বেগম জিয়ার পুরনো রোগগুলোই তারা পেয়েছেন, অন্য কিছু নয়। অর্থাৎ আমরা পূর্বেই বলেছিলাম, দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার দলের অনুগত বোর্ড সদস্যরা সরকারের পছন্দানুযায়ী পরামর্শ দেবেন, সেটিই প্রমাণিত হলো। দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য যদি ঝুঁকিপূর্ণ না হয় তাহলে অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি এপাশ ওপাশ হতে পারেন না কেন? এ কথা তো মেডিক্যাল বোর্ডই স্বীকার করেছে।’
বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আমি দলের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের এই একগুঁয়েমি ও প্রতিহিংসা পরায়ণতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে মেডিক্যাল বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে বেসরকারি কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’






