বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলের আপিল শুনানিতে হট্টগোল হয়েছে। শুনানিতে চারজন নির্বাচন কমিশনার তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। কিন্তু আরেকজন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তা বৈধ বলে ঘোষণা করেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত ইসিতে বহাল থাকলেও এজলাস কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি আবার শুরু হলে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় স্থগিত হওয়া শুনানি শুরু হলে খালেদা জিয়ার পক্ষে তাতে অংশ নেয় আইনজীবী সাবেক এটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।
তিনি এক পর্যায়ে বলেন, “আমার কিছু বলার আছে। আমার কথা বলা শেষ করার পর যেন রায় দেয়া হয়। এরপর তিনি আর্টিকেল ৬৬ এর বি উল্লেখ করে বলেন, ইটস নট এ আরপিও অর্ডার। আমার কথা আগে শোনা হোক। রং কনসেপ্ট উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।”
এর মধ্যে শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘আপনার একই কথা চার বার শুনলাম। আর কতো বার শুনবো।
এর মধ্যেই খালেদা জিয়ার পক্ষেই যুক্তি উপস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যান আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। তবে বারবার সিইসি ও ইসি কমিশনারবৃন্দ তার কথায় হস্তক্ষেপ করেন।
তখন খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জাস্ট অ্যা মিনিট। নো নো আই অ্যাম নট ফিনিশড।’
মোহাম্মদ আলীর এমন বক্তব্যের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালকুদার।
তিনি বলেন, ‘আমার রায়, আপিল নম্বর ৩৮৫/২০১৮, আপিল নং ৪৪০/২০১৮, আপিল ৫৮৭/২০১৮। আপিলকারীর নাম বেগম খালেদা জিয়া। এ প্রার্থীর আসন যথাক্রমে ২৬৫ ফেনী-১, ৪১ বগুড়া-৬ ও ৪২ বগুড়া-৭। আমার রায়, আইনগত বিবেচনায় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার উক্ত আপিল আবেদন মঞ্জুর করার পক্ষে আমি রায় প্রদান করলাম। আমি মাহবুব তালুকদার নির্বাচন কমিশনার।
এরপর আপিল শুনানির কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, নো নো ডিসিশন একজনের। একজনের ডিসিশনই সবার ডিসিশন না। আমাদেরও রায় রয়েছে।
এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলে উঠেন বলেন, “এটা হলো একজনের রায়। একজনের রায় ইসির রায় নয়। এটা ফোর কোর্টের রায় নয়। এটা ফোর কোর্টের রায় নয়।” এরপরই শুরু হয় চিৎকার চেঁচামেচি।
মাইক নিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলে উঠেন, “সংবিধানের ৬৬ ধারা অনুযায়ী যে কোনো দণ্ডপ্রাপ্তদেরকে আমরা বিবেচনা করতে পারি না। আমাদের রায় হলো, আমার রায় হলো, এ রায় (তালুকদারের রায়) মঞ্জুর করা যায় না, এই আপিল মঞ্জুর করা যায় না।
এরপরই উপস্থিত আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা উল্লাস প্রকাশ করেন।
এরপর আরেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শাহাদাত হোসেন বলেন, “যে আপিল এখানে উত্থাপন করা হয়েছে সংবিধানের ৬৬ ধারায় এই রায় না মঞ্জুর করা হলো।”
এরপর নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, “আমি বেগম কবিতা খানম বলছি, অ্যকর্ডিং কনস্টিটিউশন ৬৬, যেহেতু তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত দণ্ড বহাল আছে। আর যে রিটার্নিং অফিসারের অর্ডারের উপর বক্তব্য রাখা হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অর্ডারের স্পিরিটও আমরা দেখেছি। সেখানে সবগুলো মামলার বক্তব্য রয়েছে। এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে বক্তব্য রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আরপি’ওর রেফারেন্সও ব্যবহার করা হয়েছে।
‘‘আমরা বলতে চাই, তার বিরুদ্ধে (খালেদা) দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আমরা তার আপিলটা না মঞ্জুর করছি।’’
এরপর সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, আমি আমার তিনজন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন, কবিতা খানম ও রফিকুল ইসলাম সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে দণ্ড বহাল আছে সে কারণে আপিল করেছিল। সে আপিল আমি না মঞ্জুর করলাম।
এরপর ইসি সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, যেহেতু পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন কমিশনার আপিল আবেদন না মঞ্জুর করেছেন এবং একজন কমিশনার আপিল মঞ্জুর করেছেন বিধায়, ৪-১ ভোটে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন না মঞ্জুর করা হলো।
এর আগে দুপুরে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে বিএনপি’র আইনজীবীরা নানা যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে। শুনানি দীর্ঘ হওয়ায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।







