কয়েক বছর আগে মেসিকে নিয়ে কৌতুক ছিল যে, এক তরুণীর সঙ্গে একই বিছানায় আছেন মেসি। পরিস্থিতি যখন চরম পর্যায় ঠিক তখনই আচমকা বিছানা থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে গেলেন তিনি। বিস্মিত তরুণীর জিজ্ঞাসা-‘তুমি কী করছো?’ সরল বাক্যে আর্জেন্টাইন তারকার উত্তর, ‘দুঃখিত, জাভি এবং ইনিয়েস্তা ছাড়া আমি কিছু করতে পারি না!’
যখন সফল হলেন তখন সবাই বলতে শুরু করল, জাভি-ইনিয়েস্তার প্রতিভার কারণেই মেসি এটা করতে পেরেছেন। তিনি যখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ব্যর্থ তখন সেটার উত্তর আর্জেন্টিনা দলে যে জাভি-ইনিয়েস্তা নেই। মেসি সব কিছু একা করতে পারেন না। কোনো ফুটবলারের জন্যেই একা সবকিছু করা সম্ভব না।
বার্সায় তার শুরুটা ছিল রোনালদিনহোর ছায়ায়। পরে যখন বার্সার মূল ভরসা হয়ে ওঠেন, তখন জাভি হার্নান্দেজ আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তারা তার ফুটবল মাঠের অক্সিজেন! জাভি চলে যাওয়ার পর সেই রসায়ন জমে উঠেছিল দানি আলভেজের সঙ্গে। আর মিলেমিশে আক্রমণ শানানোর কাজে নেইমার ও সুয়ারেজ তো পাশেই ছিলেন।
কিন্তু মাসখানেকের মধ্যে আচমকাই সব বদলে গেছে। এক এক করে কমতে কমতে ‘রইল বাকি এক’ অবস্থা এখন। জাভি-আলভেজরা তো আগেই গেছেন, এ মাসের শুরুতে চলে গেছেন নেইমারও। ২০১৭-১৮ মৌসুমের লা লিগার শুরুতে চোটের কারণে নেই সুয়ারেজ আর ইনিয়েস্তারা। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর বছরটা শুরু হচ্ছে বড্ড নিঃসঙ্গ লড়াই দিয়ে।
২০১৫ সালেই জাভি হার্নান্দেজ বার্সা ছেড়ে কাতারের ক্লাব আল সাদে গেছেন। গত বছর দানি আলভেজ গেছেন পিএসজিতে আর এ বছর গেলেন নেইমার । তুখোড় সতীর্থরা যখন পাশে নেই তখন আগামীর ম্যাচগুলোতে মেসির জন্য দারুন চ্যালেঞ্জের হবে। কারণ তাকে প্রমাণ করতে হবে ‘তারকা সতীর্থ’ ছাড়াই তিনি সেরা।
অনেকেই মনে করেন মেসি জাতীয় দলের হয়ে যতটা খেলেন তার চেয়ে বার্সাতে অনেক ভালো খেলে থাকেন। কারণ সুয়ারেজ, দানি আলভেজ, নেইমার ও জাভির মতো তারকা ফুটবলার তাকে সুযোগ করে দেন। এমএসএসকে তো ‘ফুটবলের সৌন্দর্য’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন সাবেক কাতালান কোচ লুইস এনরিকে। তারা যেহেতু এই সময়ে দলে নেই তাই এখন দেখা যাবে মেসি আসলে একা কতটা ভালো খেলেন? তবে ভাল করতে হলে অবশ্য মেসিকে সমর্থন দেয়ার জন্য তার চারপাশে অন্যদেরও থাকতে হবে।
রিয়ালের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলে হারের ম্যাচে মেসি অতিমানবীয় ছিলেন না; ছিলেন একজন কেরানির ভূকিায়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, এটা খুবই বাজে দিন। আমাদের আরও জেগে উঠতে হবে এবং চালিয়ে যেতে হবে। এটা তো সবে শুরু।
ফুটবল প্রেমীদের কাছে তিনি জাদুকর নামে পরিচিত। বার্সার এমন দুর্দিনে এবার মেসিকে হয়তো জাদুই দেখাতে হবে। তিনি যে শুধুই মেসি এটাই প্রমাণ দিতে হবে তাকে। আর সেই প্রমাণ দেয়ার সময় তিনি পাচ্ছেন সামনের লা লিগায় রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে।
নেইমার যখন ছিল, তখন বার্সার আক্রমণত্রয়ীকে বলা হত ‘এমএসএন’। নেইমার চলে যাওয়ায় সেই ‘ত্রয়ী’ ভেঙে গেছে, আছে শুধু ‘এমএস’। আর এখন তো শুধুই এম!







