আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে হয়ত হিসেবটা অন্যরকম হতে পারতো! তখন দ্বিতীয় রাউন্ডেই মুখোমুখি হয়ে যেত ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স। ধুঁকতে থাকা আর্জেন্টিনা পারেনি নিজেদের সেরাটা দিতে। আর সেরাটা দিয়ে ওই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ক্রোয়েশিয়া এখন ফাইনালে। দ্বিতীয়পর্বের ওই না দেখা হওয়াটাও পূরণ হচ্ছে শিরোপার মঞ্চে। রোববার ক্রোয়েটদের প্রতিপক্ষ ফ্রেঞ্চরাই।
ফ্রান্স নামছে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে। আছে একবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরার ইতিহাসও। যেখানে ক্রোয়েশিয়ার এটি প্রথম বৈশ্বিক ফাইনাল। মহারণে নামার আগে কে থাকছে এগিয়ে? দেখে নেয়া যাক পরিসংখ্যান-ইতিহাস।
>রাশিয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের আগপর্যন্ত মোট পাঁচবার দেখা হয়েছে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার। সেই পাঁচ দেখায় তিনবার জয় পেয়েছে ফরাসিরা। একবারও জয় নেই ক্রোয়েটদের। দুই ম্যাচ ড্র হয়েছে।
>বিশ্বসেরার মঞ্চে কেবল একবারই দেখা হয়েছে দুই দলের। ১৯৯৮ সালে নিজদেশের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লিলিয়াম থুরামের জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স।
>এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতার পর ২০০৬ সালেও ফাইনালে উঠেছিল জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। কিন্তু ইতালির কাছে টাইব্রেকে হেরে সেবার শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি লা ব্লুজদের। আর এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া।
>বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচই নির্ধারিত ৯০মিনিটে ড্র করেছে ক্রোয়েশিয়া। এই তিন ম্যাচের দুটিতে টাইব্রেক ও সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে জয় নিয়ে ফাইনালে এসেছে জ্লাতকো দালিচের শিষ্যরা।
>বাছাই ও মূলপর্বসহ শেষ আট ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে ফ্রান্স।
>ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ তিন দেখায় গড়ে ২.৫টি করে গোল করেছে ফ্রান্স। যদিও এই দুই দলের শেষ দেখা হয়েছে ২০১১ সালে।
>গ্রুপ ‘সি’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ফ্রান্স। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১, পেরুর বিপক্ষে ১-০ ও ডেনমার্কের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ফ্রান্সের পয়েন্ট ছিল সাত। দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-৩, কোয়ার্টারে উরুগুয়েকে ২-০ ও সেমিতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
>গ্রুপ ‘ডি’ থেকে তিন ম্যাচেই জয় পায় ক্রোয়েশিয়া। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০, আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ও আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্ককে প্রতিপক্ষ পায় ক্রোয়েটরা। সেখানে ডেনিশদের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচ টাইব্রেকে জয়, কোয়ার্টারে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকে ও সেমিতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় ক্রোয়েশিয়া।
>ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে গোল অ্যান্টনিও গ্রিজম্যান ও কাইলিয়ান এমবাপ্পের।
>ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে গোল তিনজনের। অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ, ইভান পেরিসিচ ও মারিও মানজুকিচের আছে ২টি করে গোল।
>রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের পর সর্বোচ্চ ১২টি গোল ক্রোয়েশিয়ার। ফ্রান্সের গোল মোট ১০টি।
>প্রতিপক্ষের জাল বরাবর মোট ২৬টি শট নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্স নিয়েছে ২৪টি।
>ফাইনালে আগের ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে দুই দলই। ফর্ম পক্ষে না থাকলেও শুরু থেকেই খেলতে পারেন ফরাসি ফরোয়ার্ড অলিভিয়ে জিরুদ।







