ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব চ্যাম্পিয়নশীপে ১৯৮৭ সালেই ৪৯৫ রানের রেকর্ড ভাঙ্গা এক
ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বকে আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন ত্রিনিদাদের রাজপুত্র
ব্রায়ান চার্লস লারা। এর তিন বছর পরেই ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অভিষেক
ঘটে টেস্টের সর্বোচ্চ ৪০০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসধারীর। ১৯৬৯ সালে জন্ম নেয়া এই বিস্ময়কর
প্রতিভাধারীর আজ ৪৭ তম জন্মদিন।
সর্বকালের সেরা এই কিংবদন্তির অভাবনীয় ব্যাটিং প্রতিভা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় আরেক কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরনের মন্তব্যে। বোলারদের ইতিহাসেই অন্যতম সেরা এই লঙ্কান স্পিনার বলেছিলেন, সকল রেকর্ডই টেন্ডুলকারের অধিকারে, কিন্তু ব্রায়ান লারা তার চেয়েও ভালো। তার বিপক্ষে বল করাই সবচেয়ে কঠিন।
ব্যাটিং প্রদর্শনীতে সেরা উপভোগ্য সময় উপহার দেওয়া বাঁহাতি লারার ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে ২০০৭ সালে। ১৩১ টেস্ট ম্যাচে ৫২.৮৮ গড়ে তার সংগ্রহ ১১ হাজার ৯৫২ রান, টেস্টে সর্বো্চচ স্কোরের রেকর্ডে যা ষষ্ঠ। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৪ টি শতক রয়েছে তার। ওয়ানডেতে ২৯৯ ম্যাচে তার মোট সংগ্রহ ১০ হাজার ৪০৫ রান, শতক রয়েছে ১৯টি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট তারর রয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫০১ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস।
১৯৯৪ সালেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৭৫ রানের অকল্পনীয় এক রেকর্ড গড়েন লারা। যা ২০০৩ সালে ৩৮০ রান করে অস্ট্রেলিয়ান ম্যাথু হেইডেন ভেঙ্গে দেন। এর ৬ মাস পরেই সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সেই একই গ্রাউন্ড এসটি জোন্সে মহাকাব্যিক ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংসটি রচনা করেন তিনি। ওয়ানডেতে লারার সর্বোচ্চ ১৬৯ রানের ইনিংসটি ১৯৯৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

লারার শ্রেষ্ঠত্ব মূল্যায়নে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেলের অভিমতও লক্ষ্যণীয়। “টেস্ট ক্রিকেটে একমাত্র তারই রয়েছে ৪০০ রানের স্কোর, একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং সাতটি ডাবল সেঞ্চুরি। এটা অসাধারণ কৃতিত্ব, বিশেষত যখন আপনি দেখবেন টেন্ডুলকার বা পন্টিংয়ের কোন ট্রিপল সেঞ্চুরিই নেই।
ব্যাটিংয়ের এই বরপুত্রের ওয়ানডেতে ৪ টি উইকেটও রয়েছে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হলেও লেগ স্পিন বোলটা তিনি করতেন ডান হাতেই। লারার সম্পর্কে আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো ক্যারিবিয়ান গলফ টুর্নামেন্টে শিরোপাও জয় করেছেন তিনি।







