ক্রিকেটের নন্দন কানন ইডেন উদ্যান নয়। নয় ঐতিহ্যবাহী লর্ডস। সিলেটীয় গর্জনের সঙ্গে জনসমুদ্রে ভেসে যাওয়া এই উদ্যান বিশ্বে তো বটেই, বাংলাদেশেও নতুন। লাক্কাতুরার সেই নতুন কাননে শেষ ওভারে নাটকীয় জয় পেয়েছে সিলেট।
সাদামাটা এক দল নিয়ে প্রথম ম্যাচে ঢাকাকে ৯ উইকেটে হারায় দলটি। রোববার কুমিল্লার বিপক্ষে জয় ৪ উইকেটের।
মাঠ থেকে হাত দূরত্বে গ্যালারি। যা কানায় কানায় পূর্ণ। বল গড়াতে দেরি আছে, সিলেট সিলেট বলে আওয়াজ উঠতে দেরি নেই। দর্শক কী করতে পারে, তা ঢাকার পর ভালভাবেই টের পেল কুমিল্লা।
১২ বলে দরকার ছিল ১৬। সেখান থেকে শেষ ওভারে ১০। অন্তিম ওভারে ব্রাভো এসেই উইকেট নিয়ে নেন! ক্রিজে এসে ছয় হাঁকিয়ে আশা জাগান নুরুল হাসান সোহান। শেষ তিন বলে দরকার তিন। দুই বলে দুই। স্ট্রাইকে সোহান। লেটকাট। চার…। এবার সিলেটের আকাশে যে শব্দের গর্জন ওঠে, তা শুধু ওই সিলেটই টের পেয়েছে।
প্রথম ম্যাচের পর এদিনও সিলেট টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে কুমিল্লা করতে পারে ১৪৫।
কুমিল্লার দুই ‘জাতীয়’ ওপেনার লিটন কুমার দাস এবং ইমরুল কায়েস ৩৬ পর্যন্ত জুটিটা ধরে রাখতে পারেন। পঞ্চম ওভারে নাসির হোসেনের কাছে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ইমরুল (১২)। এক ওভার বাদে লিটনকে ফেরান তাইজুল (২১)। স্কোর যতটুকু বড় হয়েছে তার পেছনে অনেকখানি অবদান মারলন স্যামুয়েলসের। ৪৭ বলে ৬০ করে যান।

কুমিল্লার ‘চ্যাম্পিয়ন হিরো’ অলক কাপালি এদিন ছোট একটা ঝড় তুলে বিদায় নেন। ১৯ বলে দুই ছয় এক চারে ২৬ করে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন।
নাসির চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। চার ওভারে ২২ দিয়ে দুই উইকেট তাইজুলের। উইন্ডিজের তরুণ পেসার ক্রিসমার স্যান্টোকি দুই উইকেট নিয়েছেন ৩০ রান খরচায়।
জবাব দিতে নেমে দর্শকদের তালে তালে ব্যাট চালাতে থাকেন উপুল থারাঙ্গা আর আন্দ্রে ফ্লেচার। দলীয় ৭৩ রানের মাথায় ফ্লেচারকে (৩৬) রশিদ খানের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালান ব্রাভো। ১০ রান যোগ করতে আম্পায়ারের অবাক সিদ্ধান্তের বলি হয়ে সাজঘরের পথ ধরতে হয় সাব্বিরকে (৩)। রিপ্লেতে দেখা যায় পায়ে লাগা বল স্টাম্প মিস করতো! অথচ আম্পায়ার এলবিডব্লিউ বলে রায় দিয়ে দেন।
দ্রুত দুই উইকেট হারালে থারাঙ্গা একপাশ আগলে রাখেন। রানআউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৫১ করে যান। মাঝখানে নাসির ২০ বলে ১৮ করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে সিলেট। প্লাঙ্কেটকে নিয়ে সেই চাপ উতরে চায়ের দেশে উৎসব এনে দেন সোহান। অপরাজিত থাকার সময় তার স্কোর ৩ বলে ১১! এমন একটা দিনের পর উপুল থারাঙ্গাকে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ বলতে আয়োজকদের বিপাকে পড়ার কথা। এই সমস্যা থেকে তারা উদ্ধার পেতেন যদি ওই নিয়মটি থাকতো-দর্শকরাও হতে পারবেন ম্যাচের সেরা!








