বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ ২২ বছরের আধিপত্য রেখে ৪৪ বছর বয়সে রাগবিকে বিদায় জানালেন টম ব্র্যাডি। বিদায় বলার আগে সাতটি সুপার বল রিংস জিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
ক্রীড়াবিদ হিসেবে ব্র্যাডির অবস্থান কোথায়? এই অঙ্গনের তারকাদের প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার মতো নিজেদের সাথেও লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্থান দখল করে হতে হয় গ্রেট। রাফায়েল নাদাল ও রজার ফেদেরারকে যেমন একে অন্যের বিপক্ষে লড়াই করা ছাড়াও নিজেকে শ্রেষ্ঠ স্থানে নিতে লড়াইয়ে নামতে হয় নোভাক জোকোভিচের বিপক্ষে।
সাঁতারে যেমন মাইকেল ফেলপসকে নামতে হয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। উসাইন বোল্ট সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেও ভাবতে হয় নিজের অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে। বক্সিংয়ে মোহাম্মদ আলিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন টাইসন ফিউরি, তেমনি সব ক্রীড়াঙ্গনেই রয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। সেখানে রাগবিতে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে রাজত্ব করে গেছেন ব্র্যাডি।
ব্র্যাডির মতো বয়সে এসে ক্রীড়াঙ্গনে রাজত্ব দেখিয়ে চলা ক্রীড়াবিদ খুব একটা চোখে পড়ে না। অবশ্য মেসি-রোনালদোর সাথে কারো তুলনা হয় না। ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসেও তারা যেভাবে ছুটছেন, প্রশংসার দাবিদারই। অন্যদিকে ব্র্যাডি যা করেছেন সেটাও বা কম কিসে। ৪৪ বছর বয়সে অবসর বলার আগে রাজত্ব করে গেলেন দীর্ঘ সময়, যা কখনও কখনও মেসি-রোনালদোকেও ছাপিয়ে গেছে।
ক্যারিয়ারের সপ্তম সুপার বোল ব্র্যাডি জিতেছিলেন ৪৩ বছর বয়সে এসে। ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায়ে বাজে সময় পার করতে হয়, অথচ ক্যারিয়ারের কখনোয় ফর্মহীন ছিলেন না ব্র্যাডি, যা তাকে করেছে অনন্য। রাগবিকে বিদায় বলে পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়েছেন।
‘আমার স্ত্রী আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। একজন স্বামী হিসাবে আমার কাছ থেকে তার যা প্রাপ্য এবং বাবা হিসাবে আমার কাছ থেকে আমার বাচ্চারা যা চায়, তা-ই তাদের দিবো। এখন থেকে তাদের সাথে সময় কাটাব এবং তাদের যা প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করব। কারণ যা করতে ভালোবাসি তা করার জন্য দীর্ঘ বছর তারা আমাকে সময় দিয়ে গেছে। এখন আমার উচিত তাদের সকল আবদার মেটানো।’








