কোনো রকম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বা অংশগ্রহণ ছাড়াই ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গুয়েতেমালার বিখ্যাত টেলিভিশন কৌতুক অভিনেতা জিমি মোরালেস। দেশটিতে গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পেশাদার রাজনীতিকদের হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।
অথচ মাত্র ছ’মাস আগেও অনানুষ্ঠানিক হিসেবে এক শতাংশেরও কম ভোট ছিলো মোরালেসের সমর্থনে।
তার নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগান ছিলো ‘দুর্নীতিবাজ নই, নই চোর’। এই স্লোগানই মূলত তার জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই নির্বাচনটি গুয়েতেমালার শেকড়ে গেঁথে যাওয়া দুর্নীতি এবং অপরাধ সমস্যার বিরুদ্ধে বড় একটি ধাক্কা দিতেই আয়োজন করা হয়েছিলো।
গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট অটো পেরেজ মলিনাকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। এরপরই দেশে দুর্নীতি ও অপরাধ এবং এসব নির্মূলে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আসে।
গুয়েতেমালা ল্যাটিন আমেরিকার দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। দেশটি মাদক পাচারকারীদের স্বর্গ বলে পরিচিত।
জাতিসংঘের জরিপ অনুসারে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে এমন দেশের তালিকায় গুয়েতেমালার অবস্থান পঞ্চম স্থানে। দেশের প্রধানরাই দুর্নীতিতে ডুবে থাকার কারণে দেশটি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।
‘একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট এসে গুয়েতেমালার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা – বিশেষ করে এর বিচারব্যবস্থাকে ভেঙ্গে, দুর্নীতি কবলিত অবস্থায় নির্ভরশীল করে রেখে গেছেন,’ বলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল গুয়েতেমালার প্রধান ম্যানফ্রেডো ম্যারোকিন। দুর্নীতিকে তিনি ‘গুয়েতেমালার জন্য বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
দুর্নীতির অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে ২০০৭ সালে গুয়েতেমালার দুর্নীতি তদন্ত এবং নিরসনের জন্য জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা ফলাফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয় দেশজুড়ে। এর পথ ধরেই প্রেসিডেন্ট মলিনার পদত্যাগের দাবিও উঠে।
গুয়েতেমালার এই দুর্নীতিগ্রস্ত করুণ পরিস্থিতিতে জিমি মোরালেসকে ‘সবচেয়ে কম খারাপ অপশন’ হিসেবে উল্লেখ করেন দেশটির এক নাগরিক।
এখন দেখার বিষয় হলো গুয়েতেমালার এই বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কতোটা খ্যাতি অর্জন করতে পারেন।







