বল পায়ে মাঠে কারিকুরি করে দর্শকদের হাসালেন ক্রিস গেইল। যেন তিনি ক্রিকেটার নন, ফুটবলার। বাকিদেরকেও খুব একটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বলে মনে হল না। শাই হোপ যেভাবে মহেন্দ্র সিং ধোনির লোপ্পা স্টাম্পিং সুযোগ হাতছাড়া করলেন, তাতেও কারো মাঝে দেখা গেল না অসন্তুষ্টি! আসলে হারতে হারতে সেমির দুয়ার প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রান্তে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন মন্ত্র মানছে উপভোগের ক্রিকেটের। ফুরফুরে মেজাজে খেলতে খেলতে ভারতকে তারা আটকে দিয়েছে ২৬৮ রানে। এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২০ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কোহলি।
ওল্ড ট্রাফোর্ডের রোদেলা সকালে টস জিতে ব্যাটিং করাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন ভারত দলপতি বিরাট কোহলি। শুরুটাও ছিল আশাজাগানিয়া। কিন্তু কেমার রোচ সেই রোদের নিচে এমনই বল করলেন যে তিনশোর জোর সম্ভাবনা থাকা ম্যাচে ৭ উইকেটে কোনরকমে আড়াইশো পেরোল ভারত।
খুব বেশি উইকেট নেননি। কোটার ৬০ বল শেষ করেছেন, রান হজম করেছেন ৩৬টি। পকেটে উইকেট গেছে ৩টি। কিন্তু প্রতিটি উইকেটই যেন ছিল একেকটি গোলার ফসল! প্রথমে ফেরালেন রোহিত শর্মাকে (১৪)। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলটা এমনভাবে বাঁক খেলো যে রোহিত টেরও পেলেন না বল কখন তার ব্যাটে লেগে চলে গেছে উইকেটরক্ষক শাই হোপের হাতে। আম্পায়ার শুরুতে সাড়া দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে তাকে বাধ্য করা হয়েছে আঙুল তুলতে।
একইভাবে রোচের বলে ফিরেছেন বিশ্বকাপে ভারতের সেরা চার নম্বর ব্যাটসম্যান বিজয় শঙ্কর! আসরের আগে যাকে নিয়ে এত হৈচৈ ভারতীয়দের, সেই বিজয় এই ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৪ রান। পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়ে একবারও পাননি ফিফটির দেখা। পরের ওভারে কেদার যাদবকে হোপের তৃতীয় ক্যাচ বানিয়ে নিজের কোটা শেষ করেছেন রোচ।
ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও কম যাননি। রোচের চেয়ে তিন রান কম দিয়েছেন, উইকেট পেয়েছেন ২টি। প্রতিটিই অতি গুরুত্বপূর্ণ। ৪৮ রান করা লোকেশ রাহুলের স্টাম্প গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। পরে ৭২ রান করা কোহলিকে বানিয়েছেন ড্যারেন ব্রাভোর সহজ ক্যাচ।
নিজের ৫৩তম ওয়ানডে ফিফটিতে দিয়ে আবার অনন্য এক কীর্তি গড়ে ফেলেছেন কোহলি। ব্যক্তিগত ৩৭ রান করার পর ১২তম ক্রিকেটার হিসেবে ছুঁয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রান করার রেকর্ড। এই ১২ জনের মধ্যে কোহলিই একমাত্র ক্রিকেটার যার তিন ফরম্যাটে রানের গড় ৫০’র বেশি।
তবে ভারতের চ্যালেঞ্জিং রান দাঁড় করানোর পেছনে মূল কৃতিত্বটা ধোনির। দুবার শাই হোপের হাতে স্টাম্পিং থেকে বেঁচেছেন। প্রথমটি ৮ রানে। ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের বলে মাঝ উইকেটে চলে এসেছিলেন, কিন্তু হোপের কী হল কে জানে! তিনবার চেষ্টাতেও বল লাগাতে পারলেন না স্টাম্পে!
শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন ধোনি। ৩৮ বলে ৪৬ করে দ্রুত রান এনে দিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। দুজনের ৭০ রানের জুটিই মূলত বড় রানের কারিগর!







