চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ। মাঝে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল। দূরত্ব মাত্র ১০ মাইল বা ১৬ কিলোমিটারের মতো। তবু এই অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও নানা ঝক্কি পোহাতে হয় সন্দ্বীপগামী যাত্রীদের।
ছোট-বড় নৌযানে কোনোমতে সন্দ্বীপ পৌঁছানো গেলেও তীরে নেমে দীর্ঘ কাদায় ঢাকা পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে উঠতে হয় যাত্রীদের।
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই নৌপথের দুই প্রান্তে নির্মিত জেটি উদ্বোধন করেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। প্রায় ২৮ কোটি টাকায় দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হয়। জেটিতে যাত্রী ওঠানামার সিড়িও রাখা হয়।
অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এই জেটি নির্মাণ করে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড অংশে যাত্রীরা জেটি ব্যবহার করতে পারলেও সন্দ্বীপ অংশে এই জেটি ব্যবহৃত হচ্ছে না। সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া অংশে যাত্রীরা এখনো কোমর পানিতে নেমে পাড়ে উঠছেন। ভাটার সময় পানি অনেক কমে যাওয়ায় প্রায় দেড় থেকে দুই’শ গজ পানিতে নেমে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সম্প্রতি সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে: যাত্রীরা নৌ-যান থেকে নেমে এক কোমর পানিতে নেমে তীরের দিকে রওনা দিয়েছেন। বৃদ্ধ বা অসুস্থ লোকজনকে কাঁধে করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। নৌকা থেকে নেমে কুলিদের এক’শ টাকা দিলে তারা বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন বয়স্কদের। তবে কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন; জোয়ারের সময় স্পিডবোটে এলে পানিতে নামতে হয় না। তবে ভাটার সময় যাত্রীদের এমন ঝক্কি পোহাতেই হয়।
সন্দ্বীপে নিয়মিত যাতায়াত করেন ঢাকায় একটি মন্ত্রণালেয় কর্মরত ও সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জিলানী। যাতায়াতের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন: কাদামাটির ভয়ে সন্দ্বীপ আসতেই ইচ্ছে করে না। অথচ সন্দ্বীপে আমার বাবা-মাসহ সবাই আছেন। কুমিরা ঘাটে জেটিটি ঠিক আছে। গুপ্তছড়া ঘাটের জেটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কষ্ট ঘুচবে না।
জিলনী জানান, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় সন্দ্বীপ চ্যানেল উত্তাল থাকে। ওই সময় নারী-শিশুদের জন্য ভ্রমণ অনেক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থেকে নির্বাচিত সাংসদ মাহফুজুর রহমান বলেন: কুমিরা ঘাট অনেক মজবুত হয়েছে বলে ওই পাড় থেকে যাত্রীদের ওঠা-নামায় সমস্যা হয় না। তবে গুপ্তছড়া ঘাটটি উদ্বোধনের আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আসলে সন্দ্বীপ চ্যানেলে ভরাটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই নতুন জেটি নির্মাণ করা হলেও সেটাও কাজে আসবে না। সন্দ্বীপবাসীর দুঃখ ঘোচার সম্ভাবনা নেই। তবে আরো ৭২০ মিটার জেটি নির্মাণ হলে সন্দ্বীপবাসীর সুবিধা হবে বলে আশাকরি।







