লাতিন বিশ্বকাপ কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে বিশ্বকাপের দুঃখ কিছুটা ভুলতে চায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয় ব্রাজিল। আর ফাইনালে জার্মানদের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভাঙে আর্জেন্টিনার।
২০১১ সালে কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। উরুগুয়ের কাছে আর্জেন্টিনা এবং প্যারগুয়ের কাছে ব্রাজিল দু’ দলই পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নেয়।
গত ২২ বছর ধরে কোপা অধরা আর্জেন্টিনার। মেসি, তেভেজ, ডি’মারিয়া এবং আগুয়েরোকে নিয়ে সাজানো আক্রমণভাগ নিয়ে সেই খরা কাটিয়ে ১৫তম শিরোপার খোঁজে আকাশী-নীল জার্সিধারীরা।
অপরপক্ষে আটবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সর্বশেষ কোপা জিতে ২০০৭ সালে, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে। এবার তাদের মূল অস্ত্র ওয়ান্ডার বয় নেইমার। সেই সঙ্গে আছেন লিভারপুলের কটিনহো এবং নেইমারের ক্লাব সতীর্থ দানি আলভেজ।
বিশ্বকাপের পর পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দু’ দলেই। ফাইনালে হারের পর আলেসান্দ্রো সাবেলা পদত্যাগ করলে আর্জেন্টিনা কোচ নিয়োগ দেয় সাবেক বোকা জুনিয়রস ও বার্সেলোনা কোচ জেরার্দো মার্টিনোকে।
আর বিশ্বকাপের সেমিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার লুইস স্কলারির বদলে ব্রাজিলের ডাগআউটের দায়িত্বে এসেছেন সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গা। ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের পর কোচের চাকরি হারিয়েছিলেন তিনি।
কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার হয়ে হার-জিত দুয়েরই স্বাদ পেয়েছেন মার্টিনো। তবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছেন দুঙ্গা।
কোচের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে দারুণ পারফর্ম করেছেন তাদের খেলোয়াড়রাও। ২০১৪ সালের মাঠ এবং মাঠের বাইরের সব ঝামেলা কাটিয়ে স্বপ্নের একটা মৌসুম শেষ করেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন ঐতিহাসিক ট্রেবল। বার্সার গর্বের জয়ে মেসির পাশেই ছিলেন নেইমার। রেখেছেন দারুণ অবদান।
কোপা শিরোপা জেতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মেসি-নেইমার দু’জনেই।
আর্জেন্টিনার আরেক স্টাইকার তেভেজও আছেন দারুণ ফর্মে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা জুভেন্টাসের হয়ে সিরি অা’র সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ভালো ফর্মে আছেন আগুয়েরোও।
তবে খাতা-কলমের সব হিসাব বাদ দিয়ে শিরোপা ভাবনায় দুই দলের কোচ, খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের কাছে তুরুপের তাস শুধুই মেসি-নেইমার।
আর দু’ রত্নের হাত ধরেই বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন ভুলতে চায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারবেন দু’ জনের একজন, অথবা কেউই না।






