নিজের ওপর হামলার পরের দিন ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী মাহী বি চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দলের ভেতর লুকিয়ে ষড়যন্ত্রকারী যারা জাতীয় ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাতে চায় তারাই এ হামলা চালিয়েছে।
রোববার একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি কখনওই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করিনি। কারণ প্রচলিত রাজনীতি আমি করি না।
মাহী দাবি করেন, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির যখন জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন তখন তারা এই হামলা করতে পারেন না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাতৃস্নেহ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির অনেক সমালোচনা করলেও এইচ এম এরশাদ তাকে ছেলের মত স্নেহ করেন। তাই কোন রাজনৈতিক দল নয় বরং দলগুলোর ভিতর কিছু ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যক্তিগত স্বার্থে এই হামলা করেছে।
কারা হামলা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি দুই দিক থেকে হিসেব করছি। অনেকেই বলছেন নির্বাচন নিয়ে আমার ওপর যাদের অনেক ক্ষোভ তারা এই হামলা করেছে। আবার যাদের কাছে ভোট চাচ্ছি তাদের মধ্য থেকেও কেউ এ কাজ করতে পারে। কে করেছে তা বের করা পুলিশের কাজ।
সাবেক রাষ্ট্রপতির পুত্র আরো বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস পুলিশ হামলাকারীদের খুঁজে বের করবেন।
শনিবার দিবাগত রাতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বারিধারার বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর সাতরাস্তার মোড়ে একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন মাহী বি চৌধুরী। এসময় তার স্ত্রী ও গাড়ি চালকও হামলার শিকার হন।
দুর্বৃত্তরা মাহীর গাড়ির দিকে ছুটে আসে। পাথর ছুঁড়ে গ্লাস ভেঙ্গে ফেলার পর তার চুল ধরে পেটাতে থাকে। এ সময় দুর্বৃত্তরা চিৎকার করে মাহীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করে বলে দাবি করেন তিনি।
হামলায় মাহীর একটি চোখে গাড়ির কাঁচের টুকরা ঢুকে যায়। হাতেও আঘাত পান তিনি। হামলার পর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন মাহী।
হামলায় তার স্ত্রীও অাহত হন। তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মাহী চৌধুরী আওয়ামীলীগ সমর্থিত উত্তরের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের নির্বাচনী প্রচারণা নির্বাচনী আচরণের বিধি বহির্ভূত বলে দাবি করেন। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আনিসুল হক নির্বাচনী প্রচারণায় বার বার বলেন প্রধানমন্ত্রীর দোয়া তার সঙ্গে আছে। অথচ আচরণ বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
আনিসুল হক জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মাহী বি. চৌধুরী।






