সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৬ দফার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সংগঠন ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে এই দাবিগুলো জানানো হয়। দাবিগুলো হলো:
১) বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী ও এইসব পেজের অ্যাডমিনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা।
২) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অপমানজনক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হওয়ায় তা অবিলম্বে বাতিল করা।
৩) ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিসিএসসহ সব চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করা।
৪) মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া।
৫) স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ও বংশধরদের চিহ্নিত করে সরকারি সব চাকরি থেকে বহিষ্কার, নাগরিকত্ব বাতিল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে ফেরত নেয়া। এবং
৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাত আটটায় মূুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মুখপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন ছয়দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং অনিদির্ষ্টিকালের জন্য অবস্থানের কথা জানান৷
তিনি বলেন, শনিবারের মহাসমাবেশ বিকাল তিনটায় তা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। এ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে৷ সরকারকে ও সচিব কমিটিকে জানাতে চাই, যে প্রজ্ঞাপণ আপনারা জারি করেছেন তা কোনো স্বেচ্ছারিত বিষয় নয়।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আপনার বাবা আমাদের যে সন্মান দিয়েছেন সেটা আপনি বাতিল করতে পারেন না। আমরা জানি আপনি মহাবিপদের মধ্যে আছেন৷ আপনার সম্মান রক্ষা করতে আমরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে পারি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ছাড়াও শাহবাগে কোটা পুনর্বহালের পক্ষে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘মুক্তিযোদ্ধার পরিবার’ ব্যানারে আরেকটি সংগঠন।
বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে তারা। তাদের দাবি, ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখতে হবে।
বুধবার কোটা বাতিল/পর্যালোচনা/সংস্কারের জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোটা বাতিলের প্রস্তাব রেখে যে সুপারিশ করেছিল; তাতে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর থেকে আন্দোলনে নামেন তারা।







