সারাদেশে বিসিবির ক্রিকেটীয় কার্যক্রম পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ জেলা কোচ। প্রতি বছর বয়সভিত্তিক পর্যায়ে (অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৮) ক্রিকেটার বাছাইয়ে কাজ করেন তারা। বাগেরহাটে বিসিবি মনোনীত কোচ আবু তাহের। তার বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাগেরহাট অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের ওপেনার মো: নাঈম। বিষয়টি তদন্ত করছে বিসিবি।
শনিবার মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে দুই পক্ষকে হাজির করে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোচ তাহের। তবে বিসিবিতে আসার আগে নাঈমকে ফোন করে কোচ অনুরোধ করেছিলেন ঘুষের বিষয়টি যেন চেপে যায়। সেই কথোপকথনের রেকর্ডিং প্রমাণ হিসেবে বোর্ডের কাছে জমা দিযেছেন এই কিশোর।
বিসিবি পরিচালক ওবেদ নিজাম শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন এমন কিছু প্রমাণ হলে ছাড় দেওয়া হবে না কোচকে। যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত কিছুটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত নাঈমের ক্রিকেট চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ওই কোচকে নিতে বলেছে বিসিবি। তবে সেটি কতটুকু বাস্তবে সম্ভব সে বিষয়ে সন্দিহান নাঈম। মিরপুরে সংবাদমাধ্যমকে এ কিশোর বলেন, ‘মিডিয়াতে কোচের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশের পর সে কতটুকু আমাকে দেখভাল করবে সেটি তো আপনারাও বোঝেন।’
জেলা দল গঠনের আগে কোচ আমি ও আরেকজনের কাছে ৩০ হাজার টাকা চায়। আমি ভেবেছিলাম মজা করছে। কারণ আমার সে আর্থিক অবস্থা নেই সেটি সবাই জানে। আমি পারফর্ম করার পরও বাদ পড়ায় বুঝতে পারি টাকা দিতে না পারাই আসল কারণ।’
‘কোচ অনেকের কাছ থেকেই সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু সবাই তো নিজেদের ক্যারিয়ারের দিকটাই দেখবে। সবাই তো আর বলবে না। বোর্ড থেকে কোচকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ওপেনার হিসেবে কাকে রাখা হয়েছে। তখন কোচ বলল যে, উইকেটকিপার রাখা হয়েছে। উইকেটকিপার তো ওপেনার না, সে চার-পাঁচে ব্যাট করে। সে তখন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে।’
নাঈম জানান বিসিবির ডাকে বাগেরহাট থেকে ঢাকায় আসার পথে অপরিচিত এক ব্যক্তির আক্রমণের শিকার হন নাঈম। বাসে উঠার পরই চড়-থাপ্পড় দেন ওই ব্যক্তি। তবে কোচের লোক কিনা সেটি নিশ্চিত হতে পারেননি নাঈম।
নাঈমের ক্রিকেটার হতে চাওয়ার স্বপ্নে বার বার এসেছে বাধা। বাবা-মায়ের সমর্থন না থাকায় বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রথম ঢাকা পরে চট্টগ্রামে থিতু হন। বন্দরনগরীর একটি একাডেমিতে বছরখানেক ক্রিকেট খেলে নিজ জেলা বাগেরহাটে ফিরে চালিয়ে যান নিরলস পরিশ্রম।
‘পরিবারের কোনো সাপোর্ট পাইনি। আর পাচ্ছিও না। আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করি। আর স্বপ্ন ছিল হয়ত জাতীয় দলে খেলব। স্বপ্ন তো সবারই থাকে। আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। যদি আপনি আমার গ্রামে যান জানতে পারবেন মাঠে আমি অনেক কাজ করেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি। লোকে আমার পরিশ্রম দেখে পাগল বলত। আমি কখনোই পিছপা হইনি তাদের কথা কানেও দেইনি। কষ্ট লাগতো কিন্তু কানে নেইনি। রোদের ভেতর রানিং করছি। ভেবেছি যেভাবেই হোক এবার ভালো করাই লাগবে।’
চলতি মাসে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগীয় পর্যায়ের দল চূড়ান্ত হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নড়াইলে তিনটি ম্যাচ খেলতে যাবে বাগেরহাটের সেরা ১৫ ক্রিকেটার। এগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো ক্রিকেটাররা খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের ক্যাম্পে সুযোগ পাবে। তাদের মধ্য থেকে ১৫ জন চূড়ান্তভাবে জায়গা করে নেবে খুলনা বিভাগীয় দলে। এর আগে বাগেরহাটে বাছাই করা ৩৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে দুটি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। প্রথমটিতে দলের অন্য ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মধ্যে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতান নাঈম।
বিসিবি নাঈমকে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বললেও ওই দলে ফেরানোর ব্যাপারে আশ্বাস দেয়নি। নাঈম মনে করছেন এক বছর পিছিয়ে গেল কঠিন হয়ে যাবে স্বপ্নের পথে যাত্রা।
‘এক বছর… অনেক বড়ই তো ক্ষতি হয়েছে। আমি এবার অনূর্ধ্ব-১৬ তে ছিলাম। ভালো পারফর্ম করলে বিভাগীয় দলে খেলতাম। সেখানে ভালো করলে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পেতাম। তখন তো আমার ১৭ বছর হয়ে যাবে। তখন অনূর্ধ্ব-১৮ তে ট্রায়াল দিব। মেডিকেলে পাব, কি পাব না। তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। পেলে অনূর্ধ্ব-১৮ থেকে সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৯। অত বছর তো বিসিবির অধীনে তেমন সময় কাজ করতে পারব না। ১৭-এ খেলতে পারলে বিসিবির অধীনে অনেকটা সময় খেলতে পারতাম, এটা অনেক বড় ক্ষতি।’








