ঘনিয়ে আসছে টাঙ্গাইল-৪ উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। সে লক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা ১১ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ পাবেন। ১৩ অক্টোবর হবে যাচাই-বাছাই। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।
যত দিন ঘনিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে নির্বাচনী আমেজ। এ পর্যন্ত ওই আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও একজন সতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য কোন রাজনৈতিক দল নিজেদের কোন প্রার্থীতা ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের হাফ ডজনের অধিক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। নির্বাচনী মাঠে যতোখানি না সময় ব্যয় করছেন তারচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে। বিগত ৫ জানুয়ারীসহ অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচনে জনমনে প্রশ্ন থাকায় প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষ মনে করছেন আওয়ামী লীগের টিকিট মানেই এমপি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাঙ্গাইল-৪ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ১ ও ২ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করবে এবং ৩ অক্টোবর মনোনয়নের আবেদনপত্র একই কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
আর ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের পর দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। হজ নিয়ে মন্তব্যের কারণে ছিটকে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে। এরপর ১ সেপ্টেম্বর সংসদে আবেগময় এক বক্তৃতা দিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। এর দুই দিনের মাথায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
সেই শূন্য আসনের উপনির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে অন্য প্রার্থীদের পাশাপাশি সরকার দলীয় প্রার্থীদের তোড়জোড় আর পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এ নির্বাচনী এলাকা।
এদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার (ঠান্ডু), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক, জনতা ব্যাংক পরিচালক আবু নাসের, টাঙ্গাইল জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবিনা ইয়াসমীন এ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারনা চালিয়ে আসছে। তবে এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ও কাদেরীয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান আনোয়ার উল আলম শহীদ ও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা সিদ্দিকীর নাম।
আনোয়ারুল আলম শহীদ ও লায়লা সিদ্দিকীর নাম দু’টি এলাকায় চমক সৃষ্টি করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ এ নাম দু’টিকে চমক হিসেবে দেখছেন না। তারা মনে করছেন কাদের সিদ্দিকীর মতো প্রার্থীকে পরাজিত করতে হলে কাদের সিদ্দিকীর নিজস্ব ভোটে ভাগ বসাতে পারে এমন প্রার্থীর মনোনয়ন দিবে আওয়ামী লীগ। আর এজন্যই উপরের সিগনাল পেয়ে ওই দুই প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠে পদচারনা করছেন বলেও মনে করছেন তারা। এছাড়াও ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মহসিন সিকদারের নাম।






