সময়ের প্রয়োজনে ক্রিকেটের আইন-কানুন নিত্য বদলাচ্ছে। আবিষ্কার হচ্ছে নিত্য-নতুন টেকনিক ও বায়োমেকানিক্সের নানান উপাত্ত। আধুনিক হচ্ছে কোচিংয়ের ধরনও। যেজন্য কোচদের দরকার পড়ছে প্রশিক্ষণের। তেমনি এক কর্মশালায় বিসিবির অধীনে থাকা দেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কোচরা পরিচিত হচ্ছেন অনেক নতুনের সঙ্গে।
কোচিংয়ে লেভেল-৩ কোর্স সম্পন্ন করা লেগস্পিন বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদুল গনি সারা দেশের বয়সভিত্তিক দলের কোচদের নিয়ে দারুণ একটি প্র্যাকটিক্যাল সেশন পার করলেন মিরপুরের একাডেমি মাঠে। চারদিনের কোর্সের দ্বিতীয় দিনে লেগস্পিনের নানা ভ্যারিয়েশেন- টপস্পিন, গুগলি, ফ্লিপার ও সাইড আর্ম বোলিং করে দেখালেন কোচদের।
সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই কোচরাই গড়ে তুলবেন ভবিষ্যতের ক্রিকেটার। তাইতো নিজের অভিজ্ঞতার পুরোটা নিংড়ে দিলেন প্রবীণ কোচ ওয়াহিদুল। দেখালেন বোলিংয়ের সময় পায়ের মুভমেন্ট, শরীরের ভারসাম্য কেমন থাকবে। আর বয়সভিত্তিক দলের স্পিনারদের কোনটার পর কোনটা শেখাতে হবে।
দেশের স্বীকৃত ক্রিকেট কোচদের নিয়ে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিসিবির শিক্ষা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি জানালেন, ‘এখানে যারা এসেছেন তারা বিসিবির লেভেল-১, লেভেল-২ সম্পন্ন করা কোচ। এটিকে আমরা বলছি রিফ্রেশনেস কোর্স। ক্রিকেটে নতুন নতুন যে আপডেটগুলো আছে, স্পোর্টস সাইন্সের যে নতুন গবেষণা আপডেট হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে ক্লাস। তথ্যের আদান-প্রদান, প্র্যাকটিক্যাল ওয়ার্ক করা হয়। ব্যাটিং ড্রিলের যে নতুন নতুন কৌশল আছে, সাইন্টিফিক মুভমেন্ট আছে, বোলিং মেকানিকের বিষয় আছে; কীভাবে স্পিন বল করার সময় জোড় বাড়ানো যায়, ভ্যারিয়েশন নিয়ে আসা যায়, এসব বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল কোচিং দর্শন। অনূর্ধ্ব-১৪ নিয়ে যখন কাজ করবে তখন একজন কোচের দর্শন কেমন থাকা উচিত, আবার অনূর্ধ্ব-১৫ নিয়ে কাজের সময় দর্শনে কী পরিবর্তন আনতে হবে, সেজন্য কোচের দর্শন উন্নত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ের বিষয়গুলো তো রয়েছেই। এসবের মধ্যে প্রধান হচ্ছে বায়োমেকানিক। আমাদের শরীর কীভাবে কাজ করবে, কীভাবে মুভমেন্ট করবে, কীভাবে সঠিক ব্যবহার করতে পারবে- এসব। যে যত বায়োমেকানিক জানবেন, সে তত টেকনিক বা মুভমেন্ট শেখাতে পারবে, কোচিংটা ভাল হবে।’ প্রশিক্ষণের বিষয়টি এভাবেই তুলে ধরলেন রাশেন ইকবাল।
চারদিনের কোর্সে ব্যবহারিক ক্লাস ছাড়াও রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। প্রজেক্টরে কোচিংয়ের ক্লিপ দেখিয়ে আলোচনা। ক্লাস নিচ্ছেন ওয়াহিদুল গনি, নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ওমর খালিদ রুমি, ফিল্ডিং স্পেশালিষ্ট কোচ সোহেল ইসলাম, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ ড্যামিয়েন রাইট ও ভারতীয় ব্যাটিং স্পেশালিষ্ট কোচ মিথুন ম্যানহাস।

যারা কোচিং করান তারা কীভাবে শেখেন নতুন বিষয়গুলো? এমন প্রশ্নের জবাবে কোর্সের কো-অর্ডিনেটর রাশেদ ইকবাল বললেন, ‘যারা কোচদের কোচিং করাচ্ছেন তারা সবাই লেভেল-৩ করা কোচ। আমি মেলবোর্ন থেকে লেভেল-৩ করেছি। ওরা ওদের নতুন গবেষণার তথ্য মেইল করে। ক্রিকেট অ্যাথলেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামে ওদের একটা ওয়েবসাইট আছে, ওখানে সবকিছু থাকে। ওখান থেকে স্টাডি করে আমরা কোচদের কাছে শেয়ার করি। সামনে বয়সভিত্তিক খেলা শুরু হয়ে যাবে। এখান থেকে শিখে সারাবছর প্রয়োগ করতে পারবে। আগামী বছর আবার রিফ্রেশমেন্ট কোর্স হবে।
কোর্সে অংশগ্রহণকারী কোচরা জানান, কোচেস ট্রেনিংয়ের পর এটির মাধ্যমে তারা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করার একটা আগ্রহ তৈরি হচ্ছে মনের মাঝে। পুরনো বিষয়গুলো আবার নতুন করে মাথায় ঢুকছে।
ভিডিও রিপোর্ট:










