অনেকে না হলেও কেউ কেউ হয়তো জানেন ‘ কেরি সাহেবের মুন্সী’ নামের এক ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাসের কথা। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কল্যাণে কৈশোরে-তারুণ্যেই পুস্তকখানা ‘আধামাধা’ চিবিয়ে গ্রাসের সুযোগ পেয়েছিলাম। বইটির প্রচ্ছদ স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল। এখনো নাকি তেমনই প্রচ্ছদ।
সাত সমুদ্দুর তের নদী তেপান্তর তখন কয়েকঘণ্টা উড়ালের ব্যাপার ছিলনা। সব দেশেই সব যুগেই সব এলাকাতে কিছু বাউল মার্কা নটখট লোক থাকে। উইলিয়াম কেরি নামের এমন একজন তরুণের সাধ হলো সে আর বিলেতী প্রান্তরে থাকবেনা। চলে এলো তাদের সাধের ঝোঁপ ঝাড় জঙ্গলের সাপ খোপ ভুত বাঘের নব্য উপনিবেশ সুদূর ভারতবর্ষের বঙ্গীয় অঞ্চলে। সেসময় এতদঞ্চলের জমিদারদের কর্ণমোচড় আর কর্ণমালিশ-পালিশের মধ্য দিয়ে কর আদায় ছিলো বিলাতী কোম্পানী শাসনের মূল কর্মধারা। তখন লর্ড কর্ণওয়ালিশের আমল। জমিদারদের জন্য ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ নামের এক ফর্মূলা কার্যকর করে তিনি শোষণকে ’সুশৃংখল’ করে তোলার জন্য লন্ডনী অভিনন্দনের লণ্ঠনী জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছিলেন।
উইলিয়াম কেরির তখন বঙ্গদেশে খাবার জুটেনা, থাকার আশ্রয় নেই। এ কাজ ও কাজ সে কাজের শেষে অবশেষে পাদ্রীর কাজ পেয়ে তিনি থিতু হলেন। ক্রমে ক্রমে কেরি সাহেবের সৃজনশীল মস্তক নানা কাজ খুঁজে বের করল। তখন তার একজন সহকারী মানে কেরানী মানে মুন্সীর প্রয়োজন দেখা দিল। রাম রাম বসু নামে একজন অতিশয় চালাক, বুদ্ধিমান, স্বার্থপর, ত্বরিৎবুদ্ধির মুন্সীও জুটে গেলো । তারপরের নানা কাহিনীতে গড়ে উঠলো বিখ্যাত কথাশিল্পী প্রমথ নাথ বিশির কাল অতিক্রমী উপন্যাস ‘কেরি সাহেবের মুন্সি’। পাদ্রী কেরি এবং বসু মুন্সীর এই জীবিকাজুটি বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে ভিত্তিকাঠামোর সন্ধান দিয়েছেন। উপন্যাসটিতে নানা চমকপ্রদ ঘটনার বিন্যাসে বিন্যাসে আমরা তা জানতে পেরেছি।যে আগ্রহী পাঠকের উপন্যাসটি পড়া নেই, তারা তা সহজেই একালের ডিজিটাল মুন্সীয়ানায় জেনে নিতে পারবেন। আজ ঐ সুবিখ্যাত ‘ কেরি সাহেবের মুন্সী’ নিয়ে আর তেমন কথা নয়। কেরি-বসু জীবিকাজুটির দু’শ বছর আগের ঘটনার পর আজ একটি নতুন শিরোনামে একালের কলাম-ললিতকলায় প্রবেশাধিকার প্রার্থনা করছি। 
ভবদীয় হতভাগ্যের এবারের কলাম-শিরোনামটি হচ্ছে: ‘কেরি সাহেবের মুন্সিয়ানা’।তবে এই কেরি ঐ কেরি নহে। এই কেরির পুরো নাম জন ফরবেস কেরি। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ভেরি ভেরি ব্যস্ত মার্কিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগে একবার মার্কিনী প্রেসিডেন্ট হবার দৌড়ে ছোট বুশের কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। তবে ওসব দেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপার স্যাপার কেমন মিইয়ে গেছে। ওরা প্রেসিডেন্টও হতে পারে, পরে ছোট দায়িত্বে থেকেও লজ্জা পায়না। আমাদের ’ও-বাম-আ’ মিয়াও নাকি পরবর্তী জাতিসংঘের মহাসচিব হতে মনে বড় আশা পুষে চলেছেন। আর হিলারী ম্যাডাম? মনোনয়নে ধাক্কা খেলেন যেই ওবামার কাছে, তারই অধীনে কয়েকবছর দুনিয়াভাজা পররাষ্ট্র মন্ত্রীগিরি করে গেলেন।ওবামা-হিলারীসহ মার্কিনী হোমরা চোমরারা একসাথে বসে ‘ওসামা বিন লাদেন’ বধ কান্ডের মহাঅমানবিক লাইভ শো দেখলেন। গাদ্দাফীকে আটক করে রেখে ত্রিপোলী সফরে গেলেন হিলারী, সেখানকার কাশিমপুর কুঠিতে শলা-টলার পরে হঠাৎ ক্ষুব্ধ জনগণের কাছে ‘ধৃত’ গাদ্দাফী ক্যামন করে জান খোয়ালেন, সেই নাটুকে দৃশ্য পৃথিবীকে দেখালেন।
বেচারা গাদ্দাফি, জীবনের শেষ পনেরো বছর আমেরিকার সঙ্গে সাদ্দামবিরোধী লাইন দিয়ে মাখামাখি করেও রেহাই পেলেননা। ৪২ বছর আগের স্বদেশের তেলের ওপর মালিকানা নেবার ‘মাশুল’ তাকে দিতেই হলো। মার্কিন শাসকেরা ‘অভিযুক্ত’ করে শায়েস্তা করতে জানে, ‘ক্ষমা’ করতে জানেনা। ওদের আবেগ-সমুদ্রে এক ফোঁটা জল কেউ কখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। বোধ করি পারবেওনা। মার্কিনী অহম-এ যে বা যারা আঘাত করেছে, সে বা তারা সেজন্য অঢেল শূল-মাশুল গুণতে বাধ্য হয়েছে।পাদ্রী উইলিয়াম কেরি দরিদ্র হলেও একজন মুন্সী নিয়োগ ও লালনপালনের একক সাহস ও ক্ষমতা তার ছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র উজির জন কেরির ভারি দুঃখ। বেচারা যে নিজেই মুন্সী। ওবামা সভার তিনি একজন পররাষ্ট্র মুন্সী মাত্র। মুন্সীগিরিই তার মূল কাজ। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সেদিন তিনি একটুখানি পিচ্ছিল খেয়েই হাঁটু ভাঙ্গা ‘দ’। আবার মেরামতি। পুনঃ পররাষ্ট্র কেরামতি। মানে মুন্সীয়ানা।এই পররাষ্ট্র মহাজনের মূল কাজ হলো সারা দুনিয়ায় মার্কিনী নিরাপত্তা যেন এতটুকু শিথিল বা বিপন্ন না হয় তার দেখভাল করা। বিশেষতঃ কূটনৈতিক প্রকরণে। কোথাও সামরিক দাওয়াই বা দুরমুজ লাগলে সেজন্য জরুরি ব্যবস্থাপত্র দেয়া। এই পদবীওয়ালাদের প্রকৃত অর্থে ঘুম নেই। ঘর নেই। ছুটোছুটি, হুড়োহুড়ি, হুড়মুড়ি। বিমানে বসেও শান্তি নেই। কথা মালা সাজাও। দলিল গড়ো। একটি অক্ষরও যেনো মার্কিনী স্বার্থের বিপরীতে না যায়, তার প্রতি সতর্ক নজর রাখো। আজ মার্কিনী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্পহুজুর যা কর্কশ ভাষায় বলেন, বাকি মার্কিনী দু’দলের কর্তারাই একটু মোলায়েম স্বরে একই কথা বলেন: ‘আমেরিকা মহান। দুনিয়া চলবে কেবলমাত্র মার্কিনী হুকুমদারিতেই।’
এক্ষেত্রে মার্কিনী ইতিহাসের সকল পররাষ্ট্র হুজুর-হুজুরানীদের সাফল্য বিচার করা হয় ফলাফলে। যেমন লিবিয়া থেকে গাদ্দাফি উৎখাতের পর মহাশক্তিধর মার্কিনীদের নিজেদেরই রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত পৃথিবী থেকে উৎখাত হয়ে গেলেন ওবামা বললেন, হিসাবে ভুল হয়ে গেছে। অর্থাৎ হিলারিও পররাষ্ট্রদেবী হিসাবে লিবিয়াক্ষেত্রে লাড্ডু মেরেছেন। ওবামার প্রথম আমলে পররাষ্ট্র হাতা ছিলেন হিলারি। দ্বিতীয় আমলে জন কেরি। এই কেরি সাহেবের পররাষ্ট্র বিষয়ের মুন্সীয়ানার আমলনামা যখন বিচার হবে, তখন হঠাৎ রুশ পরাশক্তির পুনঃউত্থানে হকচকিয়ে যাওয়া মার্কিন নেতৃত্বের দৃশ্যটিই সবার মনে পড়ে যাবে। হায়রে ফুটো পয়সার রুশ পুটিন, হঠাৎ ওভাবে ফুটো পয়সা ক্যামন করে কড়কড়ে নোট হয়ে সিরিয়া থেকে আইএসকে থ্যাবড়া-থুবড়া করে দেবে, সূক্ষ্ম মিসাইল প্রযুক্তিতে অকার্যকর করে দেবে বিশাল আইএস শক্তিমত্তা, সেটা ভাবতেও পারেনি মার্কিনী নীতিবিশারদেরা। এক্ষেত্রে কেরি সাহেবের মুন্সীয়ানা গেলো ফ্লপ হয়ে। সময় যতো যাচ্ছে ভেংচি মারছে অনেকেই কেরির আমেরিকাকে। 
কয়েকদিন আগে চুপসানো কোলাব্যাঙ পাকিস্তান পর্যন্ত হঠাৎ ফুলে গিয়ে বলে ফেলেছে, আমরা তোমাদের উপনিবেশ নই হে হোয়াইট হাউজের কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান! সকলেই বুঝতে পারছে ঐ বিশালতম অর্থনীতির মার্কিন দেশটি আর নিজেদের ভার নিজেরাই কুলাতে পারছে না। ওদের অতীব পেয়ারের সৌদি আরব বলেছে, বেশি এদিক ওদিক করলে তোমাদের ব্যাংকের কাছে গচ্ছিত রাখা শত বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনবো নিমেষে, তখন বাঘ তুমি নিজেই হঠাৎ পরিণত হয়ে যাবে তৃণভোজী মেষে।
বাংলাদেশের জন্মের জটিল সময়ে হেনরী বলেছিল, বাস্কেট কেস, তলাবিহীন ঝুড়ি। তুচ্ছ কাকে বলে, তাচ্ছিল্য কাকে বলে, উপেক্ষা-অবহেলা-নাসিকাকুঞ্চন ইত্যাদি কী, সবই ওরা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ কয়েক দশক আগে বিশেষজ্ঞ মহলে চাউড় হলো, বাংলাদেশে আছে, অনেক আছে, তেল আর গ্যাসের ভান্ডার। আর যায় কোথা! মার্কিনী খনন কোম্পানিগুলো চনমনে হয়ে গেলো, মার্কিনী সরকারের হোলজম্যান জাতীয় রাষ্ট্রদূতেরা সেলসম্যান তৈলদূতে পরিণত হয়ে গেলো। সেসময়ে বর্তমান হিলারীর স্বামীজী বাংলাদেশে এসেছিলেন ঐ তেল-গ্যাসের গন্ধ শুঁকতে। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আমল সেটি। হঠাৎ একটি সত্যি কথা বলে ফেললেন তিনি বিল ক্লিন্টনের সামনে, আগামী পঞ্চাশ বছরের গ্যাস সংরক্ষিত রেখেই ভেবে দেখবো কাউকে দেয়া যায় কিনা।
অনেকেই ভাবলেন, সেদিনই নির্ধারিত হয়ে গেলো বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফল। কিন্তু নতুন ম্যাডাম সরকারও সাহস পেলেন না মার্কিনী কোম্পানি সহযোগে ভারতে গ্যাস পাঠাতে। তখনই ক্ষমতা যাত্রার নতুন পালা । এবার ভাবীজান-বুবুজানকে একই সঙ্গে দেশের পগার পার করে দেয়ার নব পরিকল্পনা অভিযান। সে যাই হোক, ওরা দু’জনকে একসাথে বিজন বনে পাঠাতে না পেরে একপ্রকার বাধ্য হয়ে একসময়ে বুবুজানকে ক্ষমতায় মেনে নিতে বাধ্য হলো। এদিকে ওবামার দ্বিতীয় আমলে তার পররাষ্ট্র হাতা হিসাবে এলেন জন ফরবেস কেরি। লোকে বলে উনি বড়ই ‘করিৎকর্মা’। এই প্রবীণ বয়সেও নবীন বয়সীদের মতো। ছুটছেন, ফট ফট ফুটছেন, কৌশল ঘুটছেন। ইরানের সাথে এগিয়ে যানতো, বিরান হয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। চারিদিকে রুশ-চীনের অগ্রাভিযান সামলাতে সামলাতে কেমন হয়ে যান। এ সময়কালেই বাংলাদেশে ঘটলো ইতিহাসের এক অভাবনীয় কান্ড।
১৯৭১ সনে যারা এদেশে গণহত্যার সাঙাৎ ছিল, ভেবেছিলো ১৯৭৫ এর পর থেকে ওরা চিরআজাদ। বিশেষতঃ সাকাচৌ আর বীর মুজাহিদের বাহাদুরি বচন-তুবড়ি শুনলে মনে হতো ওরা চিরঞ্জীব। সেই যুদ্ধাপরাধীদের এদেশে বিচার হবে, এমনটা ভাবা দুরূহ ছিলো। শেখ হাসিনার দ্বিতীয় আমলে বঙ্গবন্ধুর ঘাতক দানবদের অনেকে শাস্তি পেলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কতটুকু ‘আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন’ এটা নিয়ে নানা কেরদানিতে বিশ্ব জুড়ে হল্লা-তর্ক জুড়ে দেয়া হলো। তা ১৯৭১ সনের বাংলাদেশের গণহত্যাটুকু মান কতটুকু ‘নীচ ও হীন’ ছিলো সেটা নিয়ে পৃথিবীতে যেন কোন রা’ ছিলোনা। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যাকে মানবস্মৃতি থেকে মুছে দেবার পরিকল্পনা প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিলো। তারপর? ভিতরের বাইরের বিলিয়ন অর্থ আর অগণিত ষড়যন্ত্রকে ডিঙ্গিয়ে শেখ হাসিনা সরকার যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা শুরু করে দিলেন। সে সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ লবিং টেলিফোনের মূল্যমান নাকি এক কোটি ডলারে উপনীত হয়েছিলো।
কাদের মোল্লার মাথায় ফাঁসির টুপি পরানোর আগে নাকি তার শেষ জিজ্ঞাসা ছিল: ‘জাতিসংঘ থেকে টেলিফোন আসে নাই?’ কাদের জেনে যেতে পারেনি। তবে এসেছিলো পৃথিবীর নানা প্রান্ত আর প্রান্তর থেকে। টোপ এসেছিলো। প্রলোভন এসেছিলো। হুমকি এসেছিলো। এসব সময়ে যা যা আসার সবই এসেছিলো। শুধু মাথা নত করেনি বাংলাদেশের একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান প্রতিনিধি। আজকের আলোচ্য কেরি মুন্সিও তার অসীম যোগ্যতার বাক্য মুন্সিয়ানায় টেলিফোন করেছিলেন। কাজ হয়নি। প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দরে মার্কিনী আধিপত্যের দাবিনামা ছিলো। তার কপালেও জুটেছিলো সরাসরি প্রত্যখ্যান।
অতঃপর যাকে বলে মার্কিনী আক্রোশ-অভিযান। জামায়াত+কওমী। সুশীল+সম্পাদক। মার্কিন+কানাডা+ইউরোপ+মধ্যপ্রাচ্য। মাফিয়া+জঙ্গী। সর্বশক্তি যুক্ত করে সে কী আঘাত! তবুও ২০১৫ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাবার সব কলকাঠি ঢ্যামসা মেরে গেলো। তারপর কিছুকাল চুপচাপ। অতঃপর এলো চমকে দেয়া দানবিক সেই আগুনে সন্ত্রাস। চালক-যাত্রী-সাধারণ মানুষ প্রাণ দিল। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো ২০১৫ ও।
এবার ২০১৫-২০১৬। জঙ্গি কায়দায় হঠাৎ খুন। ছড়িয়ে দাও আতংক। দুনিয়া জুড়ে হৈ চৈ বাঁধিয়ে দাও। বাংলাদেশ আইএস সন্ত্রাস ঠেকাতে পারছেনা। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াল। আইএস বাংলাদেশকে ঘাঁটি করে ভারত-মিয়ানমারকেও দখল করে নেবে। অতএব বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াও। অর্থাৎ প্রবেশ করো বাংলাদেশে আইএস আতংক ব্যবহার করে।আইএস সর্পখামার গড়ে তুলেছে ওরা। আইএস দংশনের সুযোগ করে দিচ্ছে ওরা। এবার ওঝা হয়ে নামবে কেরি বাহিনী। অতএব টেলিফোন করেছেন জন ‘ফরমাইশ’ কেরি। মার্কিনী অস্ত্রমহাজনদের অমোঘ ‘ফরমাইশ’।
কেরি সাহেবের ‘মুন্সিয়ানা’।হ্যাল্লো মি. কেরি! অমন ‘কাঁচা’ মুন্সিয়ানার জন্য অজস্র ‘পাকা’ ধন্যবাদ। কী আর করবেন বলুন। অই অস্ত্রমহাজন শিল্পপতিরা যা বলেন, আপনারা যে তাদের ‘প্রমোদপ্রাণী’ মাত্র। ওবামা-বুশ-ট্রাম্প-হিলারী, সকলেই তাই। একটু এদিক সেদিক করলে কেনেডী ভ্রাতৃদ্বয়ের মতো শির কুচাল করে দেয়া হবে।এই পৃথিবীতে কতো জায়গায় কতো কিছু ঘটছে। কই হে কেরি, কোথাও তো এমন জরুরি টেলিফোন করছেননা। তা আইএস/আলকায়দার কথা রাখুন। লোকে বলে ওদের জন্মদাতাও নাকি আপনারাই। ওসবের জন্মের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোট কতোটি দেশের নেতা মেরেছেন, অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন, তার একটা হিসাব দেবেন কী? খোদ মার্কিন দেশের মূল বাসিন্দাদের কোটি কোটি জনকে কুচি কুচি করেছে কারা? আয়নায় দেখুন। আপনার পূর্বসূরীরাই।
একাত্তরের গণহত্যায় পাকিস্তানের পিছনে কারা ছিল? ওই হেনরী বুড়ো এখনও বেঁচে আছে। সাধ্য থাকলে শুধু পাকিস্তানের ১৯৫ জন সেনাযুদ্ধাপরাধী নয়, হেনরী-নিক্সনকেও ইতিহাসের এক রশিতে ঝুলন্ত দেখার সুযোগ পৃথিবী পেতো বোধ হয়। সারা পৃথিবী থেকে কত শত টেলিফোন পাবার কথা ছিলো আপনাদের? যা-ই হোক জোর যার…!
পরিশেষে বলি, পাদ্রী উইলিয়াম কেরি এবং রামরামবসু মুন্সিজী মিলে বাংলা ব্যাকরণের প্রথম পুস্তকটি প্রকাশ করে আমাদের অশেষ দান করেছেন। যে ভাষাকে রক্ষা করতে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের জন্ম দিয়েছি। আফগানিস্তান ইরাকে হাজার হাজার বোমায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছেন আপনারা। আমরা আপনাদের টেলিফোন করার ঔদ্ধত্য দেখাই নি বাস্তব কারণেই। আপনি জন কেরি আপনার মুন্সিয়ানায় কিছু ষড়যন্ত্র, রক্ত, বোমা আর অস্ত্র ছাড়া কি-ই বা দিলেন! আর কি-ই বা দিবেন! অর্থাৎ আপনি দিয়েছেন অডি। মানে অশ্বডিম্ব! কী, রাগ করলেন জন? না, না, রাগ করবেননা।
আপনি দিয়েছেন ঘোডি। মানে ঘোড়ার ডিম। সহজ করে বললাম। ইতিহাসের ঘোড়ার ডিম হাতে আগামী নভেম্বরে ওবামা জামানার শেষে আপনি দায়িত্বহারা হয়ে হতাশার ওমলেট ভাজবেন। সে দৃশ্যটুকু দেখার অপেক্ষায় আছি।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







