সিলেট, ঢাকা চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ধর্মীয় জঙ্গিবাদের নামে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তারে দেশবাসীর মতো বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়াও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বিগ্নের কথা জানান।
‘সিলেটে একটি আবাসিক ভবনে আগ্নেযাস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গোপনে অবস্থানকৃত সন্ত্রাসীদের দমনের লক্ষ্যে সফল অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনীর কমান্ডোবৃন্দসহ দেশরক্ষা বাহিনীর প্রতি অভিনন্দন জানান তিনি।
অভিযানে বিভিন্ন সদস্য এবং যে-সব সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শোক ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করে খালেদা জিয়া বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও এ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এ সংকট মোকাবিলায় আমাদেরকে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে জাতীয় ঐক্যের বিত্তিতে অগ্রসর হতে হবে। সেই আহ্বান আমি বরাবর জানিয়ে আসছি। দুঃখের বিষয় আমাদের আহ্বান এখন পর্যন্ত চরমভাবে উপেক্ষিত হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কেবলমাত্র দমন অভিযান চালিয়ে সমাজ থেকে জঙ্গিবাদের শেকড় পুরোপুরি উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। দু’একটি দমন অভিযানের সাফল্যে আত্মপ্রসাদ লাভ করারও কোনো সুযোগ নেই।
মুসলিপ্রধান এই দেশটিতে গণতন্ত্রহীনতা, জবাবদিহিতাহীন শাসন, দুর্নীতি, সুবিচারের অভাব এবং সমাজের বেকারত্বই জঙ্গিবাদ বিস্তারের প্রধান কারণ উল্লেখ করে বিশ দলীয় জোট প্রধান বলেন, এ কারণগুলো দূর করতে হবে। জনগণকে আস্থায় নিয়ে তাদের কাছ থেকে সক্রিয় সহযোগতা নিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান স্পর্শকাতর একটি সময়ে জঙ্গিবাদের আকস্মিক বিস্তার এবং দমন অভিযানে স্বচ্ছতার অভাবে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই সব সন্দেহ দূর করতে হবে। আমি এই বিষয়গুলো অবিলম্বে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও খুবই স্পষ্ট জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারর্সন বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হবার পর দেশব্যাপী এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটে। ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর আমাদের সরকারও জঙ্গিবাদের এই সংকটের মুখোমুখি হয়। আমরা কঠোর হাতে তা দমন করি। জঙ্গি সংগঠনগুরোর নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেয়া হয় এবং শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে তাদের বিচার সম্পন্ন করা হয়। পরে তাদের শাস্তি কার্যকর হয়।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই কেন জঙ্গিবাদ এভাববে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আমরা এ প্রশ্ন কJনো তুলিনি এবং এ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতিতেও লিপ্ত হইনি। জঙ্গিবাদ বিশেষ কোনো সরকার বা দলের নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। তাই দোষারোপের রাজনীতি না করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সমস্যাকে জাতীয়ভাবে মোকাবিলার জন্য আমি ক্ষমতাসীনদের প্রতি আবারো আহাবান জানাচ্ছি। দেশের সকলকে আমি এ সমস্যা নিরসনে ঐক্যবদ্ধ হবার অনুরোধ করছি’।








