মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়েছে। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক পাহাড়া দিতেন অন্তত দশজন নিরাপত্তাকর্মী। মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায় মাত্র একজন দাঁড়িয়ে। দুপুরে পকেট গেট দিয়ে অবাধে প্রবেশ করতে দেখা গেছে অনেককে।
ভেতরে ঢুকে সংঘবদ্ধ হয়ে মিছিলও করেছে একটি মহল। তবে মূল মাঠে প্রবেশ করেননি কেউ। বোর্ড সভা কক্ষেও প্রবেশ করেন কেউ কেউ।
তার আগে সকাল ১০টার দিকে বিসিবি কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ক্লাব কর্মকর্তা। ‘ক্রিকেট সংগঠক’ নামের ব্যানারে আসা সংগঠকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এতদিন বিসিবিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এসবের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।
বিসিবির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে সেখানে ছিলেন ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার দেবব্রত পাল, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও বেশ কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধিরা।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সালের পর আবার বিসিবিতে এসেছি। এসেছিলাম বিসিবির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু তাকে পাইনি। আমাদের দাবি, বিসিবি থেকে অযোগ্য সংগঠকদের সরিয়ে এখানে যোগ্য ক্রিকেট সংগঠকদের নিয়ে আসতে হবে।’
বিসিবির সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আসা সংগঠকেরা বিসিবির সভাকক্ষে গিয়ে বসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন। সুশাসন ও সুদিনের আশা প্রকাশ করেন তারা।’
তারা চলে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে মিছিল বের করে একটি গ্রুপ। দুই নম্বর গেট থেকে ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত দু’বার মহড়া দিয়ে তারা বেরিয়ে যায়। আবার শুনশান নীরব হয়ে হয়ে পড়ে স্টেডিয়াম এলাকা।

একাডেমি ভবনে কয়েকজন ক্রিকেটার থাকলেও বিসিবি অফিসিয়ালদের কাউকে দেখা যায়নি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পাকিস্তান সফর পিছিয়ে দিয়েছে বিসিবি।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলতে আগামী ১৭ আগস্ট পাকিস্তানে যাওয়ার কথা জাতীয় দলের। অক্টোবরে মিরপুর ও সিলেটে মেয়েদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
‘হোম অব ক্রিকেট’ লাগোয়া মিরপুর মডেল থানায় সোমবার ব্যাপক সংঘাত, গোলাগুলি, অগ্নিকাণ্ড, ভাংচুর হলেও স্টেডিয়ামের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।








