‘খাঁচা’র যারা প্রশংসা করছেন তাদের একজন ফৌজিয়া খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও ভাষা বিষয়ে সম্মানসহ মাস্টার্স করেছেন। এরপর পুনে ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, ভারত থেকে চলচ্চিত্র সম্পাদনা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি স্বাধীন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা, লেখালেখি এবং স্বাধীনভাবে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি তিনি দেখেছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প ‘খাঁচা’ অবলম্বনে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘খাঁচা’। ছবিটির নানাদিক নিয়ে কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে।

কেমন লাগলো ‘খাঁচা’? ফৌজিয়া খান বলেন: ‘ভালো, বেশ ভালো।’ ছবির কোন দিকটি বেশি ভালো লেগেছে জানতে চাইলে বলেন, ‘পরিচালকের কাজটাই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে। কী যে সুন্দরভাবে বিষয়টাকে ফুটিয়ে তুলেছেন!’
গল্পের সাথে ছবির সামঞ্জস্যতা বিষয়ে বলেন: গল্পটি আমি বেশ আগে পড়েছি। তেমন মনেও ছিল না। কিন্তু ছবি দেখতে গিয়ে আমি গল্পের সেই রসটা খুঁজে পেয়েছি।
আকরাম খানের পরিচালনায় ‘খাঁচা’ ছবিটি দেশভাগ নয়, বরং দেশভাগের ফলে আটকে পড়া এক ব্রাক্ষণ পরিবারের কাহিনী অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশভাগের ফলে আমাদের জীবনে যে আবদ্ধতা সেই বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে।’
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট অর্থাৎ সিরিয়া কিংবা রোহিঙ্গা ইস্যুর সাথে ছবিটির বিষয়বস্তুর কোন সামঞ্জস্যতা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন: হিন্দু-মুসলিম বিভাজন আমাদের জীবনের এক অমীমাংসিত বাস্তবতা। ফলে যা হয়, সবাই সুন্দর জীবনের খোঁজে পছন্দসই জায়গায় যেতে চায়। ছবিতে যেমন আমরা দেখেছি এপার বাংলার মানুষ ওপার বাংলায় যেতে চায়, তেমনি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার মানুষ ইউরোপে, আবার মিয়ানমারের মানুষ বাংলাদেশে আসছে। আসলে এর সবই সুন্দর জীবনের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে চলা।

ছবিটির আরও নানাদিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ছবিতে দুই একটি চরিত্রে মেকআপজনিত একটু দুর্বলতা আমার কাছে মনে হলেও, বিষয়বস্তুটা দর্শকদের এতো কাছে টেনেছে যে সেটাও খুব বেশি নজরে আসার মতো হয়নি। ছবির কস্টিউম (পোশাক-পরিচ্ছদ) নির্বাচন বেশ ভালো ছিল। এছাড়া ছবির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চরিত্রগুলোও বেশ ভালো করেছে। এককথায় পরিচালক খুব ভালো ডিল করেছেন।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলায় আটকে পড়া এক ব্রাক্ষণ পরিবারের কাহিনি নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের স্বপ্ন তারা আর এদেশে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের কোন মুসলিম পরিবারের সাথে বাড়িটি বদল করে সেখানে পাড়ি জমাবে। সেই স্বপ্নকে ঘিরে চলতে থাকে তারা। আর ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে পরিবারটির জীবনের গল্প। অবশেষে নিয়তির কাছে পরাজিত হতে হয় তাদের। ওপারে যাওয়ার স্বপ্ন তাদের স্বপ্ন-ই থেকে যায়।
ছবিতে দেশভাগের ফলে হাজারও ব্যক্তি জীবনের হাহাকার ফুটে উঠেছে একটি মাত্র পরিবারের প্রতিচ্ছবি হয়ে।

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প ‘খাঁচা’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম (অম্বুজাক্ষ), জয়া আহসান (সরোজিনী), মামুনুর রশীদ, চাঁদনী, শাহেদ আলী সুজন এবং আরমান পারভেজ মুরাদসহ আরও অনেকে।







