পুরনো ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গায় আবাসিক হল নির্মাণের জন্য এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কারাগারের পরিত্যক্ত স্থানে হল নির্মাণের দাবি সম্পর্কে সবার কাছ থেকে মতামত চেয়েছিল চ্যানেল আই অনলাইন। চ্যানেল আই অনলাইনের ফেসবুক পেজে মতামত আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারো পাঠক আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। অনেকে আবার দিয়েছেন সুচিন্তিত পরামর্শ।
এখানে পাঠকদের তেমনই কিছু মতামত তুলে ধরা হলো।
বেশিরভাগ মতামতই এসেছে হল নির্মাণের পক্ষে বা কোনো গঠনমূলক প্রস্তাবসহ। আন্দোলনের পক্ষে পোস্ট করা কমেন্টের কয়েকটি এরকম:
== ‘পুরান ঢাকার মানুষেরা বাড়ি বানাতে ১ ইঞ্চি জায়গা ছাড়েনি, খেলার মাঠ রাখেনি। আর অন্যদিকে জগন্নাথ তিন শতক ধরে শুধু পূর্ব বাংলা নয়, পুরো ভারতবর্ষে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছে। এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন।’
== ‘একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এটা আমাদের যৌক্তিক দাবি। কোনো দেশেই শিক্ষার চেয়ে বিনোদন বড় হতে পারে না, কোনোভাবেই পারে না।’
== ‘যারা ঐতিহ্য কে ইস্যু হিসেবে দেখছেন, তাদের বলে রাখি এই ঐতিহ্য রক্ষা সর্বোচ্চ ধারণ করে রাখার ক্ষমতা রাখে একটা বিশ্ববিদ্যালয়, (ঢাবিতে চোখ বুলালে প্রমাণ পাবেন)। তাই সর্বস্তরের মানুষের কাছে অনুরোধ জবি শিক্ষার্থীদের দাবি কে সমর্থন করুন।’

কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের বিপক্ষেও কথা বলেছেন অনেক পাঠক। চলুন দেখে নেই তাদের মতে হল নির্মাণ উচিৎ নয় কেন:
== ‘হল নাকি বেদখলে আছে, সেটি উদ্ধার হোক। আর নতুন হল করা হোক। কিন্তু ঐতিহ্য নষ্ট করে হল, মানে আর একটা রামপাল, সরকার জনগণকে আর ধইনচা বানাবে, রামপাল আন্দোলন ঠেকাতে এইসব কাহিনী নতুন, সন্ত্রাসবাদ আর কী বলব, কারাগার ও দিবো না রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রও দিবো না, যদি জোর করে করতে চায় তাহলে তো কিছু করার নাই। আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে হতে দিবো না। অন্য কোথাও অবশ্যই চাই।’
এই কমেন্টটিতে বিরোধিতা রিপ্লাই এসেছে অনেকগুলো। এর মধ্যে প্রথম রিপ্লাইটি এরকম: ‘হলের যে জায়গা তা অপর্যাপ্ত। আর জায়গাগুলোও ওভার পপুলেটেড। বিজনেস এরিয়ায় হল!! আর ওইটাতে ঐতিহ্য রক্ষার কী দেখছেন!! ওখানে তো পার্ক করবে। তাতে কী ঐতিহ্য???’
== ‘হল অবশ্যই দরকার তবে সেটা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অাশেপাশে হয় তবে ভালো। কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব যা তাতে খাজনার চাইতে বাজনাটাই বেশি বলে অামি মনে করি।’

পাঠকদের জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং জেলখানার পরিত্যক্ত জায়গার ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পরামর্শ এমন:
== ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিছু স্থাপনা ও ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া আছে। তারা এটা খুব ভালোভাবেই আস্থার সাথে করছে। সিটি কর্পোরেশনকে না দিয়ে যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কারাগারের জমিটি দেয়া হয় এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় সেটাই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত হবে। কারণ সিটি কর্পোরেশন কতটুকু কী করবে এটা আমরা জানি।
জাতীয় চার নেতার নামে সেখানে চারটি হল এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্মৃতি জাদুঘর করা হোক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গবেষণাগার করা হোক। আর পুরো দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হোক। এতে করে জবির এতিমদের থাকার সুব্যবস্থা ও হবে এবং স্মৃতিও রক্ষা হবে। আর মৌলিক চাহিদাকে বাদ দিয়ে বিনোদনকে প্রাধান্য দেয়া কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। বিনোদনের অনেক জায়গা আছে ঢাকায়। সরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলোর কী হাল সবাই জানি!!!’

== ‘সরকার আগ থেকেই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা কিন্তু ভাল দিক। তবে যেহেতু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর হলের প্রয়োজন আছে, সেটাও দেখা উচিত। এখানে বঙ্গবন্ধু মিউজিয়ামের পাশাপাশি পার্ক ও দুই একটি হল বানানো যায়। এতে উভয় সমস্যার সমাধান হয়। জগন্নাথ এর জমি ও হল কে দখল করেছে, সেটাও সরকারের দেখা উচিত। তাহলে আজ এই পরিস্থিতি হতো না।’







