সকল আইনী কার্যক্রম ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের অপেক্ষার
শেষ সময়ে কুখ্যাত আলবদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা
কেন্দ্রীয় কারাগারে গেছে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তার পরিবার।
রাত ৮টার দিকে নিজামীর স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাইসহ পরিবারের মোট ২৬ জন সদস্য দেখা করতে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। তবে এটা শেষ দেখা কি না; তা কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে বলেননি।
যেকোন সময় হত্যা-ধর্ষণ-গণহত্যার দায়ে নিজামীকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতে
পারে, এমন প্রেক্ষাপটে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে তার পরিবারের এটাই শেষ
দেখা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামের আমির নিজামীর পরিবারকে সন্ধ্যার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ ডেকে পাঠায়। নিজামীর পরিবারও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী মহিলা জামায়াতের আমির।
উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধী নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ আজ রাতেই কার্যকর হতে পারে। দুপুরেই কাশিমপুর কারাগার থেকে দুই জল্লাদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ফাঁসি কার্যকরের জন্য সবকিছু প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বলে জানান।
রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় সোমবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে থাকা নিজামীকে পড়ে শোনানো হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তার রিভিউ আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করার পর থেকেই ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি শুরু হয়।
আপিল বিভাগের রায়ের কপি প্রথমে আসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে ওই আদেশ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেন।
এখন পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চারজনের দণ্ড ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর হয়েছে। তারা হলেন একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিরোধী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী।





