সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ সারা দেশে বজ্রপাত একটি ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। গতকালই দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। রাজধানীতে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্টের ঘটনা ঘটছে।
গত বছর বজ্রপাতে দুই শ’র বেশি মানুষের প্রাণহানির পর এটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মূলত জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈচিত্র্যের কারণেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। বড় এবং উঁচু গাছপালা কেটে ফেলায় বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠে সরাসরি আঘাত হানায় হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ছাড়া জনসংখ্যার অধিক্যও বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
আগেকার দিনে লম্বা লম্বা তালগাছ, নারিকেল গাছ থাকলেও বর্তমানে এসব গাছ প্রায় বিলুপ্ত। নতুন করে গাছ লাগানোর হার কম থাকায় বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়। এছাড়া জনগণের অসচেতনতার কারণেও বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বজ্রপাতের সময়ে খোলা জায়গা বা গাছের নিচে থাকা যাবে না। বজ্রপাতের সময় খোলার জায়গা থেকে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। খোলা জায়গায় থাকলে মাথা নীচু করে যথাসম্ভব মাটির সঙ্গে মিশে থাকতে হবে। টিনের তৈরি ঘরে ঝুঁকি আছে, কংক্রিটের বিল্ডিং তুলনামূলক নিরাপদ। তবে বিল্ডিং এ অবস্থান করলেও সবার একরুমে থাকা উচিৎ নয়।
জাতীয় দুর্যোগের তালিকায় মৃত্যুর হারে বজ্রপাত দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও নেই তেমন উল্লেখযোগ্য প্রস্তুতি বা প্রতিকার ব্যবস্থা। তবে, আবহাওয়া অফিসের ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসের সাথেই দেয়া হয় বজ্রপাতের আভাস। বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেয়া হলেও তা নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা না থাকায় গ্রাম পর্যায়ে প্রাণহানি বাড়ছে। বজ্রপাত থেকে জানমালের ক্ষতি কমাতে তাল-নারিকেলসহ বেশি বেশি গাছ লাগানো, বিভিন্নস্থানে বজ্রনিরোধক টাওয়ার এবং আবাসিক পর্যায়ে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকাসহ জনগণের সচেতন হওয়া জরুরি।







