নরেন্দ্র মোদি-খালেদা জিয়া বৈঠক নিয়ে সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি অনেক কথাই বলেছেন। বড় বড় বিষয়ে যাচ্ছি না। আমার সমস্যা বলি কিংবা আপত্তি; ছোট একটা জায়গায়।
বিবৃতির এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন ‘বিএনপিপন্থী’ এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে…………।’ ৫ জুনের ওই সংবাদ সম্মেলনে আমিও ছিলাম। যমুনা টিভির সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান মিশু জিজ্ঞেস করেছিলেন যে মোদি-খালেদা বৈঠক হবে কি না। উত্তরে মন্ত্রী বললেন যে আমার মনে হয় না এখানে এটার কোনো সুযোগ আছে।
এই উত্তরের উপর ভিত্তি করে কেউ যদি বলেন মোদি-খালেদা বৈঠক হবে না, তাকে তো মনে হয় দোষ দেয়া যাবে না। আমি অবশ্য নিজের রিপোর্টে এ বিষয়টা উল্লেখ করি নি, কারণ আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।
তাই, ব্রিফিং-এর পর পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বললাম। উনি বললেন, মন্ত্রী মিন করেছেন যে এই সংবাদ সম্মেলনে এটা আলোচনার সুযোগ নাই।
আচ্ছা, মন্ত্রী কী বুঝিয়েছেন সেটা সাংবাদিকরা কিভাবে বুঝবেন? সাংবাদিকরা তো আর থট রিডিং জানেন না। যদিও আমি জানি সহকর্মী মিশু ভুল করেন নি, তারপরও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তিনি ভুল করেছেন। কোনো সাংবাদিক ভুল করলে তো তার প্রতিকার আছে। তা না করে সংসদে দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিককে বিএনপিপন্থী বা বিজেপিপন্থী ডাকার অধিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কে দিলেন!
মিশু কি পন্থী এটা যারা ওকে চেনেন তারা ভালোভাবেই জানেন। মন্ত্রীর কাছে কি কোনো দালিলিক প্রমাণ আছে যে মিশু বিএনপিপন্থী? প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকরা যান সাংবাদিক হিসেবে, কোনো পন্থী হিসাবে না। আর, উনি যদি জেনেই থাকেন যে প্রশ্নকারী সাংবাদিক বিএনপিপন্থী তাহলে তো উনার আরও সাবধান হওয়ার কথা ছিলো উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে।
মন্ত্রী মহোদয় একটা ভুল করেছেন যেটা তিনি মানতে চাইছেন না। আর একটা ব্যাপার। প্রশ্নটা হয়েছে পাঁচ তারিখে, কিন্তু উনি বক্তব্য দিলেন ১৬ জুন। তিনি তো বিষয়টা ওইদিন বা পরেরদিনই পরিষ্কার করতে পারতেন। আসলে, খালেদা জিয়ার অভিযোগ পত্রিকায় আসার পরেই তার টনক নড়েছে। দলের চাপতো আছেই।
মাননীয় মন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসী ভূমিকা পালন করা একজন কূটনীতিক হিসেবে আমি আপনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। আশা করছি, আপনি আমার কাছে আরও শ্রদ্ধাভাজন হবেন আমার সহকর্মী বিষয়ক নেতিবাচক বক্তব্যটা প্রত্যাহার করে।
আর, সেসঙ্গে অনুরোধ করবো কোনো সাংবাদিক যদি দলীয় কর্মীর মতো আচরণ না করেন তা হলে তাকে কোনো দলের লেবেল দেবেন না। কোনো সাংবাদিক যদি মনে মনে কোনো দল সমর্থন করেন, সেটাতো দোষের হতে পারে না যতক্ষণ না তার কাজে এটার প্রভাব পড়ে।
দিন দিন মনে হচ্ছে সাংবাদিকতা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে কঠিনতম হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে ইদানিং রীতিমতো এতিম মনে হয়। কোনো পেশাকে আমি অসম্মান করছি না। তারপরও বলি। একজন মেথরের উপর অন্যায় হলে তাঁর যাওয়ার জায়গা আছে। কিন্তু, একজন ‘নির্দলীয়’ সাংবাদিকের যাওয়ার কোনো জায়গা নেইই।
দলীয় একজন সাংবাদিককে অযোগ্যতার কারণেও চাকুরিচ্যুত করতে ম্যানেজমেন্ট একশবার চিন্তা করে। কিন্তু, দলীয় পরিচয়বিহীন একজন কর্মঠ ও যোগ্য তথ্যমজুরকে ঘাড় ধাক্কা দিতে কোনোরকম চিন্তা করতে হয় না। কারণ অফিসের ‘অন্নদাতারা’ জানেন এই ব্যাটা বা বেটি এতিম।
সৎ সরকারি কর্মচারির ছেলে আমি। তাই উপার্জন করা শুরু করতে হয়েছে বেশ ছোট বয়সেই। অনেকের কাছেই অবাক লাগতে পারে শুনে যে জীবনে প্রথম টাকা উপার্জন করেছিলাম ১৯৭৯ সালে, যখন আমি ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।
যে স্যার আমাকে অংক শেখাতেন সেই স্যারের ছোট বোনকে ইংরেজি পড়াতাম। সেও আমার ক্লাসেই পড়তো। তবে অন্য স্কুলে। সুভাষ স্যার আমাকে বলেছিলেন, আমি যা জানি তাই যেনো উনার বোনকে পড়াই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রথম পেশায়ই ফেরত যেতে হবে এবং সেটা খুব একটা মন্দ হবে না।







