যত প্রভাবশালীই হোক, সেটা নিজ দলের হলেও, কারও অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে বুধবার অনুষ্ঠিত হয় উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়। সেখানে অংশ নেন শীর্ষ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা পুলিশ কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা ও আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধে পুলিশের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ করেন আইন-শৃঙ্খলা ঠিক আছে বলেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ উন্নতি করছে। আগামী দিনে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ যেনো কোনোমতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার যেনো বন্ধ হয় সেদিকে পুলিশকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে অনেক দুর্বল পরিবারের জমিজমা কেড়ে নেয়া হয়, তাদের ওপর নির্যাতন হয়। তখন তারা আশ্রয় চায় পুলিশের কাছে।’
‘কিছু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নানা রাজনৈতিক পরিচয়ে সেখানে প্রভাব খাটাতে চেষ্টা করে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী, ‘এখানে আমার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকবে, কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না, সে যত প্রভাবশালীই হোক। এসব দুর্বল পরিবারকে অবশ্যই আপনাদের সুরক্ষা দিতে হবে। আমার দলেরও কেউ যদি এভাবে প্রভাব খাটাতে চায় তাহলেও আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।’
পুলিশ যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা দরকার তা পূরণের আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা।
কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘আপনার কর্মক্ষেত্রের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মানুষের মনে একটি বিশ্বাস বা আস্থা তৈরি করা যে এখানে (পুলিশের কাছে) গেলে তারা অন্তত নিরাপত্তা পাবে, ন্যায়বিচার পাবে। এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে আর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ মেনে চলবেন।
এর আগে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে মাঠ পর্যায়ে টহলের জন্য গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো, থানার পরিসর বৃদ্ধি, নারী পুলিশের জন্য ব্যারাক নির্মাণ, পুলিশ ডিভিশন গঠন, বীমা চালু, পুলিশ মেডিকেল কলেজ ও পুলিশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।






