২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি পণ্য আমদানিতে শূন্য শুল্কহার রাখার প্রস্তাবনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কৃষির বিভিন্ন খাত ধরে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন: কৃষিখাতের প্রধান উপকরণসমূহ, বিশেষ করে সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শূন্য শুল্কহার অব্যাহত রাখা হয়েছে।
‘কৃষকের উৎপাদিত ধান চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ পুনঃআরোপ করা হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন: কৃষির অন্যতম উপখাত এবং দেশের মানুষের আমিষের প্রধান উৎস মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে উক্ত খাতের খাদ্য সামগ্রী ও নানাবিধ উপকরণ আমদানিতে আমরা বিগত কয়েক বছর শুল্ক ও কর অব্যাহতি দিয়ে আসছি। সেটা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পোল্ট্রি ফিডের প্রয়োজনীয় উপকরণ সয়াবিন অয়েল কেক/ফ্লাওয়ারে শুল্ক হ্রাস করে শূন্য শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ৫ শতাংশ প্রস্তাব করছি।
অর্থমন্ত্রী যোগ করেন: তামাক একটি কৃষিপণ্য হলেও জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে তামাকের উৎপাদনকে সরকার সবসময় নিরুৎসাহিত করে আসছে। তাই তামাক জাতীয় সকল পণ্যের আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রয়ে উচ্চহারে শুল্ক-কর আরোপিত আছে। তবে তামাক প্রক্রিয়াজাতপূর্বক রপ্তানি উৎসাহিত করতে তামাকজাত পণ্যের উপর আরোপিত ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।
স্থানীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিভিন্ন শিল্প যেমন-মধু, চুইংগাম ও সুগার কনফেকশনারি, চকলেট ও কোকোয়া সমৃদ্ধ খাদ্য, বাদাম, সিরিয়াল, ওটস ইত্যাদির প্রতিরক্ষণের স্বার্থে এসমস্ত খাদ্য উপকরণ বাল্কে (Bulk) আমদানিতে হ্রাসকৃত শুল্কহার অব্যাহত রেখে খুচরা মোড়কে সরাসরি বিক্রয়ের জন্য আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশে বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি। সামুদ্রিক মৎস্য আহরণপূর্বক রপ্তানির মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করি। একাজে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ফিশিং নেট আমদানিতে শুল্ক প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করছি।
কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গম, ভূট্টা, আলু ও কাসাভা থেকে উৎপাদিত স্টার্চের শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ করে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।







