দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্পকে উন্নত করতে হবে, কিন্তু কৃষিকে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিতে বাড়তি নজর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্পকে উন্নত করতে হবে। তবে কৃষিকে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না
সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় তিনি বলেন: আমরা এখন বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করছি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার করতে পেরেছি। আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে। নতুন নতুন পণ্য যেমন তৈরি করতে হবে, তেমন সেগুলো রপ্তানি করতে নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা আরো যোগ করেন, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারে বাণিজ্য মেলা ভূমিকা রেখে চলছে। দেশি বিদেশি ক্রেতাদের পছন্দ-অপছন্দ, রুচি, চাওয়া জানা যাচ্ছে এই মেলার মাধ্যমে।
বঙ্গবন্ধুর কথা টেনে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য ছিলো নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য দেশকে গড়ে তোলা। মুক্তিযুদ্ধের পর দেখা গেলো শিল্প কলকারখানাগুলো সব ছিলো পাকিস্তানিদের। তারাতো দেশ ছেড়ে চলে গেলো। সেগুলো চালু করার জন্য বঙ্গবন্ধু শিল্পকলকারখানা গুলোকে জাতীয়করণ করলেন। মা যেমন রুগ্ন শিশুকে লালন করে বড় করে সেভাবেই এসব কলকারখানা আবার বড় করা হলো। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতে যতটা ব্যস্ত ছিলো দেশের জন্য ততটা ছিলো না।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশ গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়তে না। প্রধানমন্ত্রী অল্প সময়ের দায়িত্ব। এটুকু কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশের মানুষের জীবন কতটা উন্নত করতে পারলাম সেটা দেখতে চাই। নিজের ভাগ্য বদলাতে আসিনি। আমরা চাই প্রতিটি নাগরিক যেন বিশ্বের যে কোনো জায়গায় গেলে বলতে পারে, আমরা বাংলাদেশি। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্ত বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে। আমরা কি সারাজীন ভিক্ষুক থাকার জন্য দেশ স্বাধীন করেছি।
শহরের পাশাপাশি গ্রামের এখন নজর দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখন নজর দিচ্ছি গ্রামে। তাদের উন্নয়ন, তাদের আয় ক্ষমতা, তাদের পণ্য ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আরেকটি হচ্ছে যোগযোগ ব্যবস্থা। দেশের উন্নয়নে নতুন নতুন বাজার, নতুন নতুন পণ্য , মানোন্নয়ন ও ব্র্যান্ডিং করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
২০১৭ সালে চামড়া খাতকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়েছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে আরো উপরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে কাঁচামালসহ ওষুধকে ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ ঘোষণা করছি।








