ভারতের ৪০৪ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে দেড়শর আগেই ৮ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১৩৩ রান। ফলো অন এড়াতে আরও ৭২ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের।
১০২ রানে ৮ উইকেট পড়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন মিলে দিন পার করেছেন। অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেট জুটিতে এসেছে ৩১ রান। মিরাজ ১৬ ও ইবাদত ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের শেষ সেশনে জ্বলে ওঠেন কুলদীপ যাদব। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার নেন ৪ উইকেট। পড়ন্ত বিকেলে জোড়া আঘাত হানেন তিনি। পেসার মোহাম্মদ সিরাজ ৩ উইকেট তুলে টপ ও মিডলঅর্ডারে ধস নামান। উমেশ যাদবের শিকার একটি উইকেট।
ব্যাটিংয়ে নেমে সিরাজের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (০)। উমেশ যাদবের বলে স্টাম্প উপড়ে যায় ইয়াসির আলী চৌধুরীর (৪)। ৫ চারে ৩০ বলে ২৪ রান করে ফেরেন লিটন দাস। দলীয় ৫৬ রানে ফেরেন অভিষিক্ত ওপেনার জাকির হাসান (২০)।
কুলদীপ বোলিংয়ে এসেই ফেরান সাকিব আল হাসানকে (৩)। এ স্পিনারের সাধারণ এক ডেলিভারিতে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন নুরুল হাসান সোহান। ফেরার আগে করেন ১৬ রান। বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহিম আউট হন দলের রান তিন অঙ্কে যাওয়ার পর। সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। কুলদীপের ওই ওভারেই ফেরেন তাইজুল ইসলাম (০)।
তার আগে শ্রেয়াস আয়ার দ্রুত ফিরলেও শেষের ব্যাটাররা ভোগান বাংলাদেশকে। রবীচন্দ্রন অশ্বিন ও কুলদীপ যাদবের লড়াইয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত। প্রথম ইনিংসে চারশ পেরোয় তারা। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৪টি করে উইকেট। ইবাদত ও খালেদ আহমেদের শিকার একটি করে।
১৩৩.৫ ওভার ব্যাট করে ভারত। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে তারা অলআউট হয়। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অসমান বাউন্সের উইকেটে পায় লড়াকু সংগ্রহ।
তৃতীয়বার জীবন পেয়েও সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন আয়ার। ইবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হন ৮৬ রানের ইনিংস খেলে। দ্বিতীয় দিনের সকালেও একবার জীবন পান আয়ার। ইবাদতের বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। আগেরদিন ইবাদত ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান একটি করে ক্যাচ ছাড়েন তার।
আয়ার ফেরার পর অশ্বিন ও কুলদীপ ৯২ রানের জুটি গড়ে চারশর কাছে নিয়ে যান ভারতকে। ফিফটি পেরিয়ে (৫৮) অশ্বিন স্টাম্পড হন মিরাজের বলে। তাইজুল এলবিডব্লিউ করেন কুলদীপকে (৪০)। মোহাম্মদ সিরাজকে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ বানান মিরাজ।
দ্রুত রান তুলতে থাকা উমেশ যাদব ১০ বলে দুই ছক্কায় ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ১১ রানে চার উইকেট হারায় ভারত।
৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের প্রথমদিন তারা তুলেছিল ২৭৮ রান। আগের দিন দুবার জীবন পাওয়া, স্টাম্পে বল লাগার পরও বেলস না পড়ায় বেঁচে যাওয়া আয়ারকে সাজঘরে ফেরাতে না পারা হয়ে থাকে বড্ড আক্ষেপ। ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন প্রথমদিনে।
ফ্লাডলাইটের নিচে নতুন বলে স্পিনারদের পাওয়া দুই সাফল্য বাংলাদেশকে ফেরায় ম্যাচে। দিনের শেষ বলে মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডব্লিউ করেন অক্ষর প্যাটেলকে (১৪)।
ভারতের পঞ্চম উইকেট জুটির প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল। ব্যক্তিগত ৯০ রানে চেতেশ্বর পূজারাকে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন বাঁহাতি স্পিনার। ইবাদত হোসেনের বলে ১২ রানে থাকা পূজারার ক্যাচ নিতে পারেননি উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। তাইজুলের বলে ৩০ রানে আয়ারের ক্যাচও ছাড়েন টাইগার কিপার।
সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন ইবাদত। মিরাজের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ ছাড়েন। আয়ার তখন ৬৭ রানে ব্যাট করছিলেন। বড় দুর্ভাগ্যের শিকার হন ইবাদতই। আয়ারের স্টাম্পে বল লাগিয়েও উইকেট পাননি। বলের স্পর্শে স্টাম্পের এলইডি লাইট জ্বলে উঠলেও পড়েনি বেল।
প্রথম সেশনে ভারতের তিন উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৪১ রানে শুভমন গিল আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি। পরে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি।
সেশনের শেষ বল অবধি ভারতকে চাপে রাখেন তাইজুল। শুভমনকে (২০) আউট করার পর ফেরান কোহলিকে (১)। রাহুলকে (২২) বোল্ড করেন খালেদ।
৪১ রানে প্রথম উইকেট হারানো দলটির স্কোর হয়ে যায় ৪৮/৩। সেখান থেকে হাল ধরেন রিশভ পান্ট ও পূজারা। পান্টকে (৪৬) দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্যাচ হাতছাড়ার কারণে পঞ্চম উইকেট জুটিটি হয় ১৪৯ রানের।







